আজ সকালে নিহত লাভলীর মায়ের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করার পর ওই মামলায় সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সুজন রায়পুরা পৌর এলাকার মামুদপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।

লাভলী মারা গেছেন বুঝতে পেরে রক্তাক্ত লাশ শয়নকক্ষে রেখে সুজন ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান।

সুজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ১৩ বছর আগে সুজন ও লাভলীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। সাত বছর আগে সুজন মিয়া বিদেশে যান এবং গত দুই মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার আগেই তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি সুজনের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তাঁর স্ত্রী মুঠোফোনে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। ঘটনার দিন রাতভর এসব নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। উত্তেজিত সুজন মিয়া ভোরের আগে স্ত্রী লাভলীর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। লাভলী মারা গেছেন বুঝতে পেরে রক্তাক্ত লাশ শয়নকক্ষে রেখে সুজন ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে পলাতক সুজন ফরিদপুরের সদরপুরের আটরশি দরবার শরীফের আশপাশে অবস্থান করছেন। রাতেই সেখানে অভিযান চালান রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। পরে আটরশি দরবার শরীফের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আল আমিন জানান, হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সুজন মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।