বন বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৯৭-৯৮ সালে ভৈরব-কুলিয়ারচর মহাসড়কের দুই পাশে গাছ রোপণ কর্মসূচি হাতে নেয় বিভাগটি। এ জন্য স্থানীয়দের অংশগ্রহণে উপকারভোগী শ্রেণি গঠন করা হয়। মূলত উপকারভোগী শ্রেণির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সড়কের দুই পাশে মেহগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি ও শিশুগাছ রোপণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গাছ কর্তনযোগ্য সময় ধরা হয় রোপণের এক যুগ পর।

গাছ কাটার পর লভ্যাংশ ভাগ হবে পাঁচ ভাগে। এর মধ্যে উপকারভোগী পাবেন লভ্যাংশের ৫৫ শতাংশ। জায়গার মালিক হিসেবে সওজ পাবে ২০ শতাংশ। বন বিভাগের লভ্যাংশ ১০ শতাংশ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ। ১০ শতাংশ জমা হবে বন বিভাগের তহবিলে। ওই টাকা দিয়ে পরে নতুন করে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

কুলিয়ারচর অংশে রামদি ইউনিয়নের কোনাবাড়ী থেকে ছয়সূতির লক্ষ্মীপুর এলাকা পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার। ওই অংশ বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গাছ রোপণ করা হয় ২৮ হাজার। মোট ১০৫ জন উপকারভোগী কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। একই জায়গায় পরবর্তী সময়ে সওজও কিছু গাছ রোপণ করে।

বিল্লালের দাবি, ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সওজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৪ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৫ কিলোমিটার অংশে তিনি গাছ রোপণ করেছেন। তিনি এর আগেও একবার গাছ কাটার চেষ্টা করেন। কিন্তু বন বিভাগের করা মামলার কারণে শেষে আর সফল হননি।

গাছ কাটার অধিকার পাওয়ার জন্য তিনি ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় পান ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। বিল্লালের দাবি করা পাঁচ কিলোমিটার অংশে গাছের সংখ্যা ১ হাজার ৮২০। চুক্তি অনুযায়ী, বিল্লাল গাছ কাটার অনুমতি পান ৯১০টি। রায় পাওয়ার পরও এত দিন চুপ ছিলেন বিল্লাল। গত শনিবার থেকে গাছ কাটা শুরু করেন। তখন বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে।

গাছ কাটা থামাতে ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৬ জুলাই উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটে গাছ কাটার নিম্ন আদালতের আদেশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা ও গাছের স্বত্ব প্রতিষ্ঠায় সময় ও সুযোগ দাবি করা হয়।

কুলিয়ারচর উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুবই বিব্রত। আদালত রায়ের বিপক্ষে যাওয়া যাচ্ছে না। আবার রায়ের সুযোগ নিয়ে বিল্লাল দুই পাশের সব গাছ কেটে নিচ্ছেন। এখন আমরা উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি।’

গত সোমবার দুপুরে দেখা যায়, অন্তত ২০ জন শ্রমিক গাছ কাটায় যুক্ত আছেন। কুলিয়ারচর উপজেলার মুছা মিয়া উচ্চবিদ্যালয়, মনোহরপুর ও বাজরা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাছ কাটা হয়েছে।

এদিকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিল্লাল হোসেনকে ডেকে আনেন ইউএনও সাদিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, বিল্লাল তাঁকে আদালতের রায় দেখিয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ার হয়ে যাওয়ায় প্রতিকারে উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না।

সওজ কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সওজের সঙ্গে বিল্লালের একটি চুক্তি আছে। তবে যতটুকু জানি, এখানে বন বিভাগেরও গাছ রয়েছে। এ অবস্থায় ইস্যুটি নিয়ে আমরা বিব্রতবোধ করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন