আশ্রয় হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে ঠাঁই এক নারীর

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে সোনিয়া বেগম নামের এক নারী তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে তোলাছবি : সংগৃহীত

বাঁশঝাড়ের নিচে জঙ্গলের মতো দেখতে নির্জন স্থান। সদ্য দাফন করা একটি কবরের ওপর বাঁশের কঞ্চি ছড়ানো। সেখানে মাটিতে বিছানা পেতে বসে আছেন এক নারী। আর তাঁর পাশে বসে খেলছে দুই শিশু। নির্জন পরিবেশে সেখানে আর কেউ নেই।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে এই দৃশ্য দেখা যায়। ওই নারীর নাম সোনিয়া বেগম (৩২)। তাঁর সঙ্গে আছে দুই  সন্তান—৯ বছরের মেয়ে ও দেড় বছরের ছেলে। শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

সোনিয়া বেগম বলেন, তাঁর স্বামী সুজন মাহমুদ সম্প্রতি অকাল মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অভিযোগ, সচ্ছলতা থাকার পরেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুজনের যথাযথ চিকিৎসা করাননি। এতে ধুঁকে ধুঁকে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁকে নামতে হয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। তাঁর দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাঁকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও তাঁর শ্বশুর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। বিষয়টি তখন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়।

সোনিয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব? আমার তো আর কেউ নেই। স্বামীর ভিটায় থাকার অধিকারটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এখানে বসে আছি। আল্লাহ যদি কোনো ব্যবস্থা করেন।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বামী হারানোর পর মানবিক দিক বিবেচনায় সোনিয়াকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। তবে আইনি জটিলতার ভয়ে শেষ পর্যন্ত সেই আশ্রয়ও ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না পেয়ে চরম অবহেলার শিকার হয়ে সোনিয়া তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নেন। স্থানীয় লোকজন জানান, পারিবারিক বিরোধ যা–ই থাকুক না কেন, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দাদা-দাদির তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

এ বিষয়ে সোনিয়া বেগমের শ্বশুর কফিল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষকে নিয়েই মীমাংসা করার চেষ্টা করছি। যদি মীমাংসা না হয় তাহলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।