বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই ট্রাক-পিকআপ ভ্যানে বাড়ি যাচ্ছেন
শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে তিন ধাপে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার প্রথম ধাপে ছুটি পেয়ে জেলার শ্রীপুরের শ্রমিকেরা ছুটছেন বাড়ির পথে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই ট্রাক-পিকআপ ভ্যানে চড়ে বাড়ি যাচ্ছেন।
আজ দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, নতুন বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর, রঙ্গিলাবাজার ও জৈনাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে প্রতিটি পয়েন্টে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। বাসের জন্য সড়কের পাশে অবস্থান করছেন তাঁরা। ঢাকা থেকে উত্তর দিকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জগামী যাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ঢাকা অভিমুখী যাত্রীর সংখ্যাও লক্ষণীয়। ঢাকার দিক থেকে আসা বেশির ভাগ গণপরিবহন যাত্রীতে পরিপূর্ণ। কোনো আসন খালি না থাকলেও শ্রীপুরের সড়কের পাশে অবস্থান করা যাত্রীদের অনেকেই ভিড় ঠেলে সেগুলোতে উঠে পড়ছেন। উঠতে না পেরে কেউ কেউ পিকআপ ভ্যানে চড়ে বসেছেন। বেলা দেড়টা পর্যন্ত এসব সড়কে যানজট দেখা যায়নি। শুধু বাসস্টেশনগুলোতে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার কারণে মাঝেমধ্যে কিছু সময়ের জন্য যানবাহনের সারি থেমে থাকতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ যাত্রী গাজীপুরের বিভিন্ন কলকারখানায় চাকরি করেন। অনেকেই স্ত্রী-সন্তানসহ এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ঈদ এলেই পরিবার নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রতিবারই যাত্রার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা থাকে।
শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়কের পাশে অপেক্ষারত ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. ইউসুফ বলেন, তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। প্রথম ধাপে ছুটি পেয়েছেন। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বাসে আসন না পেলে বিকল্প উপায়ে পিকআপে করে হলেও বাড়ি ফিরবেন।
আরেক শ্রমিক নাসরিন আক্তার বলেন, দুই সহকর্মীর সঙ্গে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায় নিজ গ্রামে ঈদ করতে যাচ্ছেন তিনি। বাসের জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে একটি পিকআপে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় চড়ে বসেছেন।
মাওনা চৌরাস্তায় অপেক্ষমাণ শ্রমিক শারফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে ছোট শিশু থাকায় তিনি বাসের আসন ছাড়া যাত্রা করতে চাচ্ছেন না।
জৈনাবাজার এলাকায় ট্রাকের পেছনে বসে যাত্রা করেছেন জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন, এতেই আনন্দ। বাসে সিট নেই, তাই বাধ্য হয়ে তিনি ট্রাকে উঠেছেন।
মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি, ওয়াপদা, নয়নপুর, এমসি বাজার ও জৈনাবাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এ ছাড়া তিনটি মোবাইল টিম মহাসড়কে টহল দিচ্ছে। কেউ ভাড়া বেশি নিলে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষে হাইওয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি করছে।