ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটবোঝাই একটি ট্রাকের অতিরিক্ত ভারে সোনাহাট বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা।
আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে দুধকুমার নদের ওপর অবস্থিত সোনাহাট বেইলি সেতু দিয়ে ইটবোঝাই একটি ট্রাক সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটি সেতুর স্টিল অংশে উঠতেই অতিরিক্ত ওজনের কারণে একটি পাটাতন ভেঙে ট্রাকটি দেবে যায়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, সেতুটির সর্বোচ্চ ওজন ধারণক্ষমতা ১০ টন। অথচ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন ইট বোঝাই ছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণেই সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে লোকজন নৌকায় করে নদী পার হচ্ছে।
সোনাহাটের এক ব্যাংক কর্মকর্তা মনির বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজও সময়মতো বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম। এসে দেখি, সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হয়েছি।’
ভূরুঙ্গামারীতে সাপ্তাহিক গরুর হাট বসে মঙ্গলবার। গরু ব্যবসায়ী আমজাদ ও মজিবর বলেন, সকাল আটটার মধ্যে হাটে পৌঁছাতে না পারলে ভালো জায়গা পাওয়া যায় না। তাঁরা একটি তিন চাকার যানে (ভটভটি) আটটি গরু নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেতু বন্ধ থাকায় নৌকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু তৈরি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হয়। এই সেতু দিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন ও নাগেশ্বরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন যাতায়াত করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো এই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যাওয়া কিংবা ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও বিকল্প সেতু না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এটি ব্যবহার করছে। এতে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগ বাড়ছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, যানবাহনে অতিরিক্ত ওজনের কারণে সাধারণত মামলা হয় না, তবে জরিমানা আরোপের বিধান আছে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটির ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজন ট্রাকটিতে বহন করা হচ্ছিল। এ কারণেই সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। ট্রাকের মালিক ও ইট ক্রয়কারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।