সিলেট নগরের বন্দরবাজার এলাকায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ এলাকায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসা করছিলেন শিহাব আহমদ। তাঁর সঙ্গে স্ত্রীসহ ছিলেন আরও তিনজন।

শিহাব আহমদ বলেন, বন্দরবাজার থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া নিতে সাধারণত ১০০ থেকে ১২০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ২০০ টাকা দাবি করছেন। তিনি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বললেও চালক তাঁর প্রস্তাবে সায় না দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

একই এলাকায় আম্বরখানার যাত্রী মনসুর উদ্দিন বলেন, সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বন্দরবাজার থেকে আগে আম্বরখানা যেতে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা নিলেও এখন চালকেরা ২০ টাকা চাইছেন। অনেক বাগ্‌বিতণ্ডার পর ১৫ টাকায় যাওয়া যাচ্ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে সেটি সবাই জানেন, এরপরও যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না। সিএনজিচালিত অটোরিকশা জ্বালানি তেলে চলে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তেল লাগে না, কিন্তু সব মালামালের দাম বাড়তি। সে সঙ্গে গাড়ির যন্ত্রাংশের দামও বেড়েছে। এখন আমাদের টিকে থাকতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

বন্দরবাজার থেকে কুমারগাঁও এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ২৫ টাকায় যাত্রী পরিবহন করা হতো। এখন সেটি বাড়িয়ে ৩৫ টাকা দাবি করছেন চালকেরা।
বন্দরবাজার এলাকা থেকে শহরতলির কুমারগাঁও এলাকায় যাতায়াতের জন্য যাত্রী ডাকছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হুমায়ুন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জনপ্রতি ৩৫ টাকায় কুমারগাঁওয়ে যাত্রী নিচ্ছেন তিনি। এই দূরত্বে ভাড়া বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব মালের দাম বাড়তি, আমাদের টিকে থাকতেই ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।’

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকা থেকে মেন্দিবাগ যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন রতন মল্লিক। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা আগের তুলনায় এই দূরত্বে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বাড়তি ভাড়া চাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রতন মল্লিক বলেন, মির্জাজাঙ্গাল এলাকা থেকে মেন্দিবাগ যেতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া নেওয়ার কথা। সেখানে চালকেরা চাচ্ছেন ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। আধা ঘণ্টায় পাঁচজন চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসা করেও ১৬০ টাকার নিচে কেউ যেতে চাননি। এ জন্য আধা ঘণ্টা ধরে মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি।

নগরের জেলরোড মোড়ে স্ত্রীর সঙ্গে কেনাকাটা করে শাহজালাল উপশহরে ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো বাড়তি ভাড়া দাবি করছে। শাহজালাল উপশহর থেকে জেলরোড এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সেখানে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা।  

সিলেট থেকে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জাফলংয়ে যাতায়াত করা লেগুনা চালকেরাও যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকা ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচল করা যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া গতকাল শুক্রবারের তুলনায় জনপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার ভাড়া বাড়ানো হলেও শনিবার বেলা দেড়টায় সর্বশেষ খবর পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচল করা যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া গতকাল শুক্রবারের তুলনায় জনপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে অন্য এলাকায় যাতায়াত করা বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু শনিবার সড়কে বাস এবং অন্যান্য পরিবহনের সংখ্যা কম লক্ষ করা গেছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন