ওই তিন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ তারিখে তাঁরা দোকান বন্ধ করে স্থানীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বরিশালে যান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় মোল্লারহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার নেতৃত্বে একদল যুবক মিছিল নিয়ে তাঁদের তিনটি দোকানে তালা মেরে দেন। সমাবেশ থেকে ফিরে ৫ তারিখ সন্ধ্যায় দোকান খুলতে গেলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান। দোকান খুললে ভাঙচুর ও মারধর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের নেতা সোহেল রানা।

খলিল সরদার বলেন, ‘দোকানের পাশে আমার বাড়ি। শুক্রবার দোকান বন্ধ করে বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যোগদান করি। শনিবার সন্ধ্যায় এসে দেখি, দোকানে অন্য একটি তালা মারা। স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে জানতে পারি, সোহেল রানার নেতৃত্বে আমার দোকানে তালা মারা হয়েছে।’

খোকন খন্দকার বলেন, ‘আমার দোকানে দুটি তালা মেরেছেন সোহেল রানা। আমি এখন বাসা থেকে বের হতে পারছি না। তাঁদের ভয়ে আমার দোকান খুলতে পারিনি। দোকান খুললে ভাঙচুর করার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারছি না, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা আরও ক্ষিপ্ত হতে পারেন। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। ব্যবসা না করতে পারলে সংসার চলবে কীভাবে!’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তাঁর নেতৃত্বে কোনো দোকানে তালা মারা হয়নি। রাজনীতি করলে অনেক ধরনের মিথ্যাচারের শিকার হতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। কে বা কারা তালা মেরেছে, সেটাও তিনি জানেন না।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, মোল্লারহাট ইউনিয়নে কারও দোকানে তালা মারা হয়েছে কি না, সেটা তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।