গত বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলমের একটি বিতর্কিত ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গত বছরের ১৯ নভেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কার করার পর থেকেই সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয়। এ পদে বসতে তখন থেকেই অনেকে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই নেতারা প্রার্থিতা ঘোষণা দেন, নামেন ব্যাপক প্রচারণায়।

এটাই গাজীপুর নগরে প্রথম সম্মেলন। এ কারণে সবার মাঝেই আনন্দ বইছে। আমরা ইতিমধ্যে প্রায় সব কাজ সম্পন্ন করেছি।
জাহিদ আহসান রাসেল, আহ্বায়ক, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি

সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলমের মতোই দাপুটে কাউকে চান তৃণমূল নেতারা। আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, মূলত সাধারণ সম্পাদকই দলকে সামনে নিয়ে যান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা আন্দোলন–সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে দলীয় বড় বড় অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিগুলো জাহাঙ্গীর আলম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কর্মী সমাগম ঘটিয়েছেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তাঁর মতোই একজন আসবেন—এমন প্রত্যাশা সবার।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এখন পর্যন্ত যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা হলেন বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সহসভাপতি আফজাল হোসেন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, সদস্য আবদুল হাদী শামীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও গাজীপুর সিটির কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মন্ডল এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার।

সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আজমত উল্লা ছাড়া দৃশ্যত আর কোনো প্রার্থী নেই। তবে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ পদে বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী আলিম উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে।

গত তিন দিনে স্থানীয় পর্যায়ের ছয় থেকে সাতজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সভাপতি পদে আজমত উল্লা খানই থাকছেন, এমনটাই ধরে নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, আজমত উল্লা নগরের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা। নেতা–কর্মীরা বলছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন রেখে নতুন কাউকে সভাপতি করা হলে মনোমালিন্যও সৃষ্টি হতে পারে।

সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে শহরের রাজবাড়ী মাঠে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। পুরো মাঠ ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার–পোস্টারে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘এটাই গাজীপুর নগরে প্রথম সম্মেলন। এ কারণে সবার মাঝেই আনন্দ বইছে। আমরা ইতিমধ্যে প্রায় সব কাজ সম্পন্ন করেছি। কয়েক লাখ মানুষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় আমাদের এ সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয়ভাবে বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হবে।’

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন ঘোষণা করবেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আজমত উল্লা খানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।