ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব সাময়িক স্থগিত, শাহ্‌ মখদুম কলেজে ছাত্ররাজনীতি স্থগিত

শিক্ষককে মারধর ও চাঁদাদাবির মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করে রাজশাহীতে ছাত্রদলের মানববন্ধন। গতকাল রোববার বিকেলে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টেছবি: প্রথম আলো

রাজশাহীর শাহ্ মখদুম কলেজের শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্ররাজনীতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে শাহ্ মখদুম কলেজ পরিচালনা কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ আল মারুফ। তিনি ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

শাহ্ মখদুম কলেজের অধ্যক্ষ এস এম রেজাউল ইসলাম বলেন, পরিচালনা কমিটির সভায় রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে মারধরের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। পরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই ছাত্রের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ওই শিক্ষকের করা মামলায় ৬ মার্চ রাতে আবদুল্লাহ আল মারুফসহ দুই ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বেশ কয়েক মাস ধরে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক আসাদুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন আবদুল্লাহ আল মারুফ। আসাদুজ্জামান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাঁরা তাঁকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে চলতি বছরের ৪ মার্চ নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় বাসার সামনে একা পেয়ে আসাদুজ্জামানকে মারধর করেন তাঁরা। এ সময় তাঁকে আবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে গতকাল বিকেলে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক মানববন্ধনে ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, মামলাটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।