সিলেট জেলা ছাত্রদলের সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন বলেন, বিভাগীয় গণসমাবেশকে উপলক্ষ করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পুরো সিলেট নগরকে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি দলীয় নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নগরে প্রতিদিন প্রচারমিছিল ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণের কাজ গতকালও চলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভাগীয় সমাবেশে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ছাড়াও আশপাশের রাস্তায় মানুষজনের ব্যাপক সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। এ কারণেই বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রচারমিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। সমাবেশে দলটি লাখো মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কিছু কিছু জায়গায় পুলিশ প্রচারমিছিল ও প্রচারপত্র বিতরণে বাধা দিচ্ছে। তবে কোনো বাধা-বিপত্তি গণসমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঠেকাতে পারবে না। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাবেশ সফলে কাজ করছেন। নগরজুড়ে ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন সাঁটানো এ প্রস্তুতিরই অংশ।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি দল গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরের ঘাসিটুলা, বেতেরবাজার, শামীমাবাদ ও কাজলশাহ এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করেছে। তাঁর সঙ্গে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোটাটিকর এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দিকী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি গণসংযোগ করেন। তাঁর সঙ্গে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুকুল মোর্শেদ, আকতার রশিদ চৌধুরী, আফজাল উদ্দিন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন খান, সাবেক আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান, মহানগর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ইউনুস মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ সফল করতে ছয় কমিটি

সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলে ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোর মধ্যে ‘আবাসন ব্যবস্থাপনা’ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। ‘ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ‘প্রচার ও মিডিয়া কমিটি’তে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ‘অভ্যর্থনা কমিটি’তে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী, ‘আপ্যায়ন কমিটি’তে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং ‘দপ্তর কমিটি’তে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির শাহীনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফলে সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।

ছয়টি কমিটিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ, ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গৌছ, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ সম্পৃক্ত আছেন।