হাসনাত আবদুল্লাহর পাশে স্কুলজীবনের বন্ধুরা, উপহার দিলেন ১৪ লাখ টাকা

কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর স্কুল জীবনের বন্ধুরা। নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য তাঁকে উপহার দিয়েছে ১৪ লাখ টাকা। শনিবার বিকেলে দেবীদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেছবি: প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়জীবনের বন্ধুরা। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাঁকে ১৪ লাখ টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিকেলে দেবীদ্বার সদরের রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে হাসনাতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ ২০১৪ সালে এ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী মাঠে হাসনাতের পাশে দাঁড়াতেই একত্র হন বন্ধুরা। এই ১৪ লাখ টাকা প্রবাসে থাকা ও দেশে অবস্থানরত ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরা সম্মিলিতভাবে হাসনাতকে উপহার দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকার সাকিব, আহম্মেদ শুভ, মুহতাদির যারিফসহ ১৪ ব্যাচের আরও অনেক বন্ধু। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ছাড়াও দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে হাসনাতের কয়েকজন বন্ধু তাঁকে নিয়ে কথা বলেন। এই উপহারকে বন্ধুত্ব, আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। বন্ধুরা আশা প্রকাশ করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেবীদ্বারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি দেবীদ্বারে স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দিন শেষে আমি যেই রাজনীতিই করি না কেন, সবাই হয়তো আমার রাজনীতির সঙ্গে একমত হবেন না। কিন্তু একটি জায়গায় আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি—স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে আপনারা আমাকে সব সময় পরিষ্কার ও দৃঢ় অবস্থানে পাবেন।’

নিজের কথা বলতে গিয়ে হাসনাত জানান, এই দেবীদ্বারের মাটিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। এলাকার রাস্তাঘাট, মানুষ ও বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে দেবীদ্বারকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আছে। তবে সে জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এ সময় রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাসনাত বলেন, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়ে সবার ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অতীতে আমাকে নানা কটূক্তি করা হয়েছে। বলা হয়েছিল, আমি ৫০০ ভোটও পাব না। আমার বিরুদ্ধে জুতামিছিল হয়েছে, আমাকে বলা হয়েছিল আমার বংশপরিচয় নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল, রেয়াজ উদ্দিনের বন্ধুরা যদি আমার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আর কাউকে খুঁজতে হবে না। সেই বিশ্বাস ভুল ছিল না। আজ বন্ধুরা আমার পাশে। তাদের এই ভালোবাসা ভোটের মাঠে আমাকে প্রেরণা জোগাবে।’

দেবীদ্বারকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ‘আমরা পরিবারতন্ত্রের বাইরে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব চাই। যদি মেধা, দক্ষতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে তিনি যে-ই হোক দেবীদ্বারের মানুষ তাকে গ্রহণ করবে।’