ইটিপির ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের ছটফট, বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনের একই অবস্থা, পরে মৃত ঘোষণা
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সিরামিক কারখানার বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) প্ল্যান্টের ট্যাংকে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাড়াগাঁও এলাকার এক্সিলেন্ট সিরামিকস (টাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ) লিমিটেড নামের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা–আমাদী গ্রামের মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম ও নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার বল্লী গ্রামের সিভিল হেলপার রুমেল মিয়া।
পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে কারখানাটির ইটিপি প্ল্যান্ট পরিষ্কারের কাজ চলছিল। সেখানে কাজের সময় প্রথমে ট্যাংকে নামেন রুমেল মিয়া। একপর্যায়ে তাঁকে ছটফট করতে দেখে ট্যাংকটিতে নামেন শফিকুল ইসলাম। তিনিও একইভাবে সেখানে অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকেন। এরপর দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন।
অন্য শ্রমিক ও কর্মকর্তারা মই বেয়ে নেমে ওই দুজনকে উদ্ধার করেন এবং তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে কারখানার অন্য শ্রমিক ও কর্মকর্তারা মই বেয়ে নেমে ওই দুজনকে উদ্ধার করেন এবং তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারকাজে অবহেলা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কারখানার স্যানিটারি প্ল্যান্টের প্রধান অবিনাশ কুন্ডু বলেন, কোনো অবহেলা হয়নি। নিহত দুজন কারখানাটির নিয়মিত শ্রমিক নন। তাঁরা ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে সেখানে কাজ করছিলেন।
এ ঘটনার পরপর জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্প পুলিশ–৫) গোপীনাথ কাঞ্জিলাল। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদ্ধারকাজে অবহেলার সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ইটিপি ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে ওই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।