ধর্মপাশায় ঝড়বৃষ্টিতে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ৩০টি গ্রাম
ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামে গতকাল শনিবার ভোর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামবাসী।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জামালগঞ্জ উপজেলার উপ–আঞ্চলিক কার্যালয় ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নটি সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন। এই ইউনিয়নের গ্রামগুলোয় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক রয়েছেন। শনিবার ভোর পাঁচটা থেকে ওই ইউনিয়নে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি।
ওই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হেলাল চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকের মুঠোফোন বন্ধ হয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে জেনারেটর দিয়ে ফোনে চার্জ দিতে হচ্ছে। ফ্রিজে রাখা মাছ–মাংসও নষ্ট হচ্ছে।
গোলকপুর বাজারের ব্যবসায়ী জামান মিয়া (৪২) বলেন, সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে পানি তুলতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুর ও নদী থেকে পানি এনে ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও জারারকোনা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ‘কখন যে বিদ্যুৎ আসবে, জানি না। পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সমস্যা সমাধানে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সোহেল মিয়া বলেন, ‘যে কাজ এক দিনে শেষ করা যায়, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তার সমাধান করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। আমি এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধানে তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে থাকা জামালগঞ্জ উপজেলা উপ–আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আজহারুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ওই ইউনিয়নের পাঁচটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে, তারও বিচ্ছিন্ন। একটি ট্রান্সফরমারসহ বৈদ্যুতিক অন্যান্য উপকরণ নষ্ট হয়েছে। এসব খুঁটি মেরামত ও বিদ্যুতের অন্যান্য কাজের জন্য ঠিকাদার রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’