রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাজারের ভেতর বালুবোঝাই ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো কলার ব্যাপারী রায়হানুল ইসলাম (৪২) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করে রাজশাহীর পবা হাইওয়ে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত রায়হানুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামে। তিনি উপজেলার বানেশ্বর ঝলমরিয়া বাজারে কলা কেনাবেচা করতেন। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
রায়হানুল ইসলামের ভাগনে আবদুল্লাহ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মামা ঝলমলিয়া বাজার থেকে কলা কিনে অন্য জায়গায় বিক্রি করেন। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি বাজারে কলা কিনতে গিয়েছিলেন। বাজারের মধ্যে ট্রাক ঢুকে উল্টে গেলে তিনি ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। এতে তাঁর দুই পা কাটা যায় এবং ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। সকালেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল। সকালে তাঁর অক্সিজেন চলছিল। তিনি কথাও বলছিলেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার প্রামানিক জানান, আহত রোগীটিকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করা হলেও সন্ধ্যায় তিনি মারা গেছেন।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, দুর্ঘটনায় নিহত নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের সিয়ামের (২৬) বাবা শাহীন আলী সড়ক পরিবহন আইনে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। ট্রাকের চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের মো. সেন্টুর (৪৫) মরদেহের কফিন খুলে তিনটি ‘পা’ পাওয়ার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, অতিরিক্ত ওই পা দুর্ঘটনায় নিহত পুঠিয়া উপজেলার রায়হানুল ইসলামের। ভুল করে তাঁর বিচ্ছিন্ন একটি পা সেন্টুর মরদেহের কফিনে দেওয়া হয়েছিল।