রেজোয়ানের বড় ভাই মেরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা গত শনিবার রাতে যশোর থেকে রাজশাহীতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে নাটোর থেকে আসেন সাকিব। গতকাল সকালে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। এমন সময়ে বাইরে তাঁর ভাই ও সাকিবকে ডাকা হয়। তিনি পরে গিয়ে দেখেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে রেজোয়ান ও সাকিবকে হাতকড়া পরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাঁরা পাঁচ থেকে ছয়জন ছিলেন। তাঁদের সবার মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। শুধু যাওয়ার সময় তাঁর মুঠোফোনটা দিয়ে যান। ওই সময় গাড়িতে আরও দুজন ছিলেন। যাঁদের মধ্যে একজনের হাতকড়া পরা ছিল। গাড়িটি ছিল সাদা রঙের গাড়ি। কাচ ছিল কালো রঙের। তিনি জানতে চেয়েছিলেন তাঁরা কোন থানা বা বাহিনী থেকে এসেছেন। তাঁর ভাই ও সাকিবের কী অপরাধ? কিন্তু তাঁরা কিছু না বলে জানান, দুজন নিরাপদে থাকবেন।

মেরাজুলের অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি নগরের চন্দ্রিমা থানায় বিষয়টি জানান। তারা জিডির জন্য নির্ধারিত সময়ের পরে আসতে বলে। তাঁরা ২৪ ঘণ্টা পর থানায় গেলে পুলিশ জিডি না নিয়ে নগরের মতিহার থানায় যেতে বলেন। তাঁরা মতিহার থানায় গেলে ঘটনাটি চন্দ্রিমা থানায় হওয়ায় সেখানে গিয়েই জিডি করার পরামর্শ দেন। দুপুর পর্যন্ত জিডি নেয়নি। তাঁরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এ নিয়ে তাঁরা খুব চিন্তিত।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আজ সোমবার দুপুরে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান আলী মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলে খোঁজ নিতে বলেন। পরে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রফিকুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে পুলিশের একটি দল বিকাশ (মুঠোফোনে ব্যাংকিং) প্রতারণা চক্রকে ধরতে রাজশাহীতে অভিযান চালাচ্ছে। তারা ওই দুজনকে আটক করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ঘটনাটি জানার পরই তাঁরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পরে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ তাঁদের নিশ্চিত করেছে, ওই দুজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। তাঁদের নিয়ে পুলিশ অভিযানে আছে। তবে কোন শাখার বাহিনী, তা জানায়নি।