গ্রেপ্তার চারজন হলেন—নওগাঁ পৌরসভার হাট-নওগাঁ ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন (৩৮), আর্জি নওগাঁ পাটালিপাড়া এলাকার ইমরান হোসেন (৩৬), নওগাঁ সদর উপজেলার কাঠখৈর গ্রামের বাসিন্দা হুজুর আলী (৪০) ও নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাঘের আওয়াত গ্রামের মেহেদী হাসান (২০)।

র‍্যাবের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে জমির কাগজ দেখানোর কথা বলে আবদুস সামাদ (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে দুলাল হোসেন ও হুজুর আলী নওগাঁ পৌরসভার পাটালি মোড় এলাকায় ডাকেন। পরে তাঁরা কৌশলে সামাদকে দুলাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ওই বাড়িতে থাকা এক নারীর সঙ্গে সামাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন তাঁরা। পরে ওই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সামাদের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে সামাদ তাঁর পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে অপহরণকারীদের দেন। তবে পুরো টাকা না পেয়ে সামাদকে আটকে রাখেন অপহরণকারীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের একটি দল গতকাল রাতে দুলাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে র‍্যাব। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় অপহরণ করে টাকা আদায় এবং অশ্লীল ছবি ধারণ করার অভিযোগে মামলা হলে তাঁদের থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোস্তফা জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। এই চক্রে মোট ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ করে আবার কখনো সখ্য গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীরা এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন না। এ কারণে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ করে গেলেও তাঁরা এত দিন ধরা পড়েননি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়সাল বিন আহসান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ আদালতে নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।