৩৬ বছর পর পূর্ণ মন্ত্রী পেল ফেনী, নেতা–কর্মীদের উচ্ছ্বাস, মিষ্টি বিতরণ
একাধিকবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা বাদ দিলে ফেনী জেলা থেকে গত ৩৬ বছর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে কেউ দায়িত্ব পাননি। এবার সেই খরা কাটল। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ফেনী ৩ (সোনাগাজী, দাগনভূঞা) আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মিন্টু মন্ত্রী হওয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
আজ সন্ধ্যায় মিন্টুর মন্ত্রী হওয়ার খবর শোনার পর তাঁর জন্মস্থান ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। উপজেলার বেকের বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। স্লোগান দিয়ে উদ্যাপন করতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মিন্টুর এ সাফল্যকে দাগনভূঞাবাসীর জন্য বড় অর্জন বলে অভিহিত করেন।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁকে মন্ত্রী মনোনীত করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দাগনভূঞাসহ সারা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন মন্ত্রী পরিষদের ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী আজ শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
জানা যায়, জাতীয় পার্টির শাসনামলের শেষের দিকে ফেনী ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের মন্ত্রী পরিষদে (১৯৮৯- ১৯৯০) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ফেনীর ওই আসন থেকে আরও দুবার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। খালেদা জিয়ার কথা বাদ দিলে জাফর ইমামের পর দীর্ঘ ৩৬ বছর ফেনী জেলা থেকে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী হননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ফেনী জেলা আবারও মন্ত্রী পেয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন পরীক্ষিত বিএনপির নেতা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, আমরা দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছি, একজন যোগ্য লোককে যোগ্য স্থানে দেওয়া হয়েছে। তিনি সফলতার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আবদুল আউয়াল মিন্টু । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিক পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।
শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মিন্টু ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম থেকে ১৯৬৮ সালে বিএসসি ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৩ সালে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে উচ্চতর ডিগ্রি ও ১৯৭৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।