তিতাস নদ–তীরবর্তী জমি ভরাটের দায়ে এনসিপির নেতাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ড্রেজারের বালু এনে নদ–তীরবর্তী জায়গা ভরাটের কাজ চলছিল। বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদ–তীরবর্তী প্লাবনভূমি অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আজিজুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিন হাজার ফুট পাইপ নষ্টসহ দুটি খননযন্ত্র অকেজো করা হয়।

বুধবার বিকেলে তিতাস নদের জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায় এই অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন। আজিজুর রহমান জেলা এনসিপির সাবেক আহ্বায়ক। বর্তমান কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকার তিতাস নদের পূর্বপাড়ের সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশীনগর গ্রাম। নদ–তীরবর্তী এলাকায় আজিজুর রহমানের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার দক্ষিণ দিকে নদের তীরঘেঁষা প্রায় ১০-১৫ কানি জমি রয়েছে। ভাটায় প্রস্তুত করা কাঁচা ইট সেখানে রেখে শুকানো হতো। এক যুগের বেশি সময় ধরে ইটভাটাসহ জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষাকালে ইটভাটার পাশের নিচু জমি প্লাবিত হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় বাসিন্দারা জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করতে গত এক মাসে ভেকু দিয়ে নিচু জমির মাটি কেটে চারপাশে স্তূপ করে রাখা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা দিয়ে ড্রেজারের বালু এনে নদের এই তীরবর্তী জায়গা ভরাটের কাজ চলছিল।

এ নিয়ে ৭ জুলাই প্রথম আলোতে ‘নদীর তীরের জমি ভরাট করছেন এনসিপির নেতা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তিতাস নদ–তীরবর্তী প্লাবনভূমি ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌকায় করে বালু এনে অবৈধভাবে  এনসিপির নেতা আজিজুর রহমান নদ–তীরবর্তী জমি ভরাট করছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার বিকেলে জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট–সংলগ্ন তিতাস নদের পূর্বপাড়ের ঘাটুরা মৌজায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন। এ সময় অবৈধভাবে খননযন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে নদ–তীরবর্তী জমি ভরাট করা হচ্ছে দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান চলাকালে ভরাটের কাজে ব্যবহৃত আনুমানিক তিন হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি দুটি খননযন্ত্র অকেজো করে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সুহিলপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ও সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের বেঞ্চ সহকারী আল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, তিতাস নদ–তীরবর্তী ভূমি অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে আজিজুর রহমানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজিজুর রহমান অভিযানের সময় উপস্থিত না থাকায় তাঁর প্রতিনিধি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন।