প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ
উপজেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৮৩ জনের মধ্যে ৫৪তম, ভেরিফিকেশনে বাদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় মা–বাবাও খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও পাননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটাতেও আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ জাহিদ ও তাঁর পরিবার।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ (২৮)। বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক, মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। তবু পড়াশোনা থামাননি জাহিদ।
সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর মা কান্না করেছেন, বাবাও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’
কী কারণে জাহিদকে ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি। জাহিদের দাবি, তাঁর কোনো রাজনৈতিক পদ নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটার প্রার্থী হিসেবেও তাঁর সুযোগ ছিল। এরপরও ভেরিফিকেশনে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জাহিদ।
নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে একটি পোস্টও দেন জাহিদ। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন। সেখানে আলম রহমান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই আমাদের মাদার বখ্শ হলের সদস্য ছিলেন। উনাকে ভালো করে চিনি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। খবরটা শুনে হতাশ হলাম।’
জাহিদের গ্রামের বাসিন্দারাও বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। সাপলেজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাহিদ ও তাঁর পরিবার খুবই ভালো। তাঁরা কেউ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গেও জড়িত নন। তবু কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, বুঝতে পারছি না।’