জেলে ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ ভোরের দিকে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় জাল ফেলেন জেলে কলিম উল্লাহসহ তাঁর সঙ্গে থাকা জেলে ও শ্রমিকেরা। দুপুরের দিকে প্রায় ১৫ জন মিলে জালটি টেনে তুলতেই প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। জাল থেকে মাছগুলো ঝুড়িভর্তি করে সৈকতে স্তূপ করে রাখা হয়।

বিকেলে পশ্চিমপাড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, টানা জালে ছোট পোয়া, ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ ধরা পড়েছে। কিছু শ্রমিক ধরনভেদে মাছগুলো আলাদা করছেন। পাইকারেরা সেখান থেকে কিছু মাছ বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বাকি মাছ বিভিন্ন শুঁটকিমহালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

জেলে মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ বলেন, তাঁর টানা জালে ৯ লাখ টাকার মাছ উঠেছে। গত বছর একই সময়ে তিনি ছয় লাখ টাকার মাছ পেয়েছেন। কয়েক দিন ধরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে বলে তিনি জানান।

কলিম উল্লাহর সঙ্গে কাজ করা আবদুল শুক্কুর নামের এক জেলে বলেন, স্থানীয় বাজারে এসব মাছ প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। ধরনভেদে বেশি দামে বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে একসঙ্গে এত মাছের চাহিদা না থাকায় মাছগুলো দিয়ে শুঁটকি বানানো হবে।

মাছের ক্রেতা হাসান আহমেদ বলেন, তিনিসহ কয়েকজন মিলে মাছগুলো ৯ লাখ টাকায় কিনেছেন। এর মধ্যে কিছু মাছ টেকনাফসহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি মাছ বিভিন্ন শুঁটকিমহালের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

টেকনাফের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশের প্রজনন বাড়াতে ২০১৯ সাল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এ কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন বেড়েছে। সুফল হিসেবে সমুদ্রতীরবর্তী জেলেদের জালে ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।