‘কুষ্টিয়া জেলা গফুরের হাতের মধ্যিই’, বললেন জামায়াতের এমপির ভাই
‘সেই সব গরমের যুগ নাই। এখন মনে করবি কুষ্টিয়া এখন গফুরের হাতের ভিতর। কুষ্টিয়া জেলা গফুরের হাতের মধ্যিই। ভাবিছো কি, আমার ড্রাইভারকে মারতি যাবা আর আমি বসে তামুক খাবো।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে বলতে শোনা যাচ্ছে এই কথা। কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নান।
১৭ সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মিরপুর উপজেলা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমলা ইউনিয়নের নিমতলা থেকে কালিতলা পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার পাকা রাস্তার মেরামতকাজ চলছে। ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় কাজটি পান কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চঞ্চল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী রাস্তার কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহার করতে হবে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে অঞ্জনগাছী গ্রামে ওই সড়কের উন্নয়নকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজে বাধা দেন এলাকাবাসী। এ খবর পেয়ে সেখানে ইটভাটার মালিক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের ভাই আব্দুল মান্নান ছুটে যান। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সেই সব গরমের যুগ নাই। এখন মনে করবি কুষ্টিয়া এখন গফুরের হাতের ভিতর। কুষ্টিয়া জেলা গফুরের হাতের মধ্যিই। ভাবিছো কি, আমার ড্রাইভারকে মারতি যাবা, আর আমি বসে তামুক খাবো।’
তবে তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি সম্পর্কে আব্দুল মান্নান দাবি করেন, ‘নিম্নমানের ইট তিনি সরবরাহ করেননি, বরং স্থানীয় বিএনপির লোকজন চাঁদার দাবিতে কাজে বাধা দিচ্ছেন। আপনারা (সাংবাদিকেরা) এসে দেখে বিবেচনা করেন, আমি কয় নম্বর ইট দিচ্ছি। ইটের গাড়ি কাজের সাইটে আসলে আমার ড্রাইভারের (ট্রলিচালক) সঙ্গে হেলাল নামের স্থানীয় একজন খারাপ আচরণ শুরু করে।’
আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘যে ঠিকাদার কাজ করছেন তিনি নতুন। আমার সাথে ভালো সম্পর্ক। তাঁর একটি কাজ আমি কিনতেও চেয়েছিলাম। তবে আমি মানছি এমপিকে নিয়ে যে কথা বলেছি, তা বলা আমার ঠিক হয়নি।’
এদিকে রাত ৯টার দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতি দেন। তাতে তিনি লেখেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খণ্ডিত ও সম্পাদিত ভিডিও ক্লিপ প্রচার করা হয়েছে, যা তাঁর ভাই আব্দুল মান্নানের একটি কথোপকথনের আংশিক অংশ ব্যবহার করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একটি ঘটনার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশের ভিডিও ধারণ করে তা কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে করে প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহকে আড়াল করে ভিন্ন একটি বিভ্রান্তির ধারণা তৈরি করা যায়। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁর সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী ঠিকাদার সাবু বলেন, রাস্তার কাজে কোনো খারাপ ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরে ঠিক হয়ে গেছে। মিলেমিশে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
মিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জহির মেহেদী হাসান বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগটি সঠিক নয়। এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এমপি সাহেবের ভাই ঠিকাদারকে ইট সরবরাহ করছে বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাধা দিয়েছিল। পরে সেটা বসে ঠিক করে নিয়েছে।