দল-পক্ষের নামে মারামারি, বন্দুকবাজি বন্ধ করতে হবে : সালথায় শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে হবে। দল-পক্ষের নামে মারামারি, বন্দুকবাজি বন্ধ করতে হবে। এগুলো করে কোনো লাভ হয় না। হাসপাতালে যেতে হয়, মামলা হয়—কিন্তু আসলে আমাদের কোনো লাভ হয় না।’ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আজ শুক্রবার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
আজ বিকেলে বল্লভদী ইউনিয়ন বিএনপি এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। এতে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের বিএনপির যে নেতা–কর্মীরা মঞ্চে বসে আছেন, সামনে আমার যাঁরা মুরব্বি আছেন—আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান ও নির্দেশনা থাকবে, সব ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থেকে এই রমজান মাসে জনগণের পাশে থাকবেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কোনো উল্টাপাল্টা কাজ, কোনো দুই নম্বর কাজে যদি কাউকে জড়িত হতে দেখি, তাহলে আইন আইনের গতিতে চলবে। সে যে দলেরই হোক, যে মতেরই হোক, যে ঘরেরই হোক—তা কোনো বিষয় নয়। আমার দায়িত্ব সবার জন্য। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা ভোট দেননি—আমি সবার। আমি শুধু বিএনপির এমপি নই।’
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মারামারি বন্ধ করে কীভাবে সমগ্র উপজেলায় উন্নয়ন করা যায়, আমাদের ভাইবোন যাঁরা ইয়াং জেনারেশন, তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে কাজ করা যায়, আমাদের শিক্ষার ব্যবস্থা কীভাবে উন্নত করা যায়, রাস্তাঘাট কীভাবে ঠিক করা যায়—সেগুলোতে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এখানে প্রশাসনের যে কর্তাব্যক্তিরা আছেন, আমাদের কর্মকর্তারা আছেন, এসপি আছেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আছেন। তাঁদের প্রতি আমি অনুরোধ করব—আপনারা জনগণের পাশে থাকবেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা নিরসনে সহযোগিতা করবেন।’
নতুন সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকার শপথ নেওয়ার ১১–১২ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার এসেছে, তার ১১ দিনের মাথায় সারা বাংলাদেশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হচ্ছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়নে এই ফ্যামিলি কার্ড ছড়িয়ে পড়বে।’
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব, সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করুন। নির্বাচনের সময় আমি বিভিন্ন গ্রামে গিয়েছি, আমাদের মা-বোনেরা রাস্তাঘাটের সমস্যার কথা বলেছেন। কোথাও রাস্তা নেই, কোথাও ব্রিজ প্রয়োজন। দয়া করে পরিকল্পনা তৈরি করে আমাকে জানান। আমরা যত দ্রুত সম্ভব অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করতে চাই। এখানে একটি গার্লস স্কুলের প্রয়োজন। মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমরা দ্রুত পরিকল্পনা শুরু করব।’