গাজীপুরে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, একজনের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে জবাই করা পাঁচটি ঘোড়ার মাথা, লেজ, চামড়া ও নাড়িভুঁড়িসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে শ্রীপুরের ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে।

আটক ব্যক্তির নাম ডালিম মিয়া (৪১)। তিনি বেড়াইদেরচালা গ্রামের মো. শামসুদ্দিনের ছেলে। তাঁদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়; তবে শ্রীপুরে জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছেন। শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ডালিম মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও নাড়িভুঁড়িসহ আটক করে। খবর পেয়ে সেখানে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা যান। জিজ্ঞাসাবাদে ডালিম মিয়া জানান, তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন মিলে ঘোড়া জবাই করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন। জবাই করা ঘোড়ার মাংস স্থানীয় ও দূরদূরান্তের এলাকায় গরুর মাংসের নামে বিক্রি করা হতো।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ডালিম মিয়া স্বীকার করেছেন যে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজন ঘোড়া জবাইয়ের পর মাংস নিয়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন অংশ। সেগুলো ফেলে দিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে ডালিম মিয়াকে ১৫ দিনের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উদ্ধার করা ঘোড়ার মাথা ও অন্যান্য অংশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।