দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর পরিত্যক্ত টয়লেটের কূপ থেকে মফিদুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আসামি মাসুদ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে মাসুদ বলেছেন, সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে কটূক্তি করায় মফিদুল ইসলামের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে গলা চেপে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলার মালদহ গ্রামে নিখোঁজের তিন দিন পর গত সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের কূপ থেকে মফিদুল ইসলামের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মফিদুল ওই গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার নিহত মফিদুল ইসলামের ছোট ভাই লিটন মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়াকে (২৯) আটক করে পুলিশ। পরে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি ওই গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি ও প্রতিবেশীর একটি খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা মফিদুলের মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল বিকেলে মাসুদ মিয়াকে দিনাজপুর আদালতে তোলা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমীন আকতারের কাছে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, মফিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে আসামি মাসুদ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আসামি মাসুদ মিয়ার জুয়া খেলাসহ নানা খারাপ অভ্যাস ছিল। এসব কারণে প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এর পর থেকে মাসুদ মিয়া রাতবিরেতে বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়াতেন। রাতে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হাতে লাঠি রাখতেন। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আসামি মাসুদ মিয়া গান শোনার জন্য মফিদুল ইসলামের কাছে যান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে মফিদুল ইসলাম তাঁর (মাসুদ) সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে কটূক্তি করেন। তখন মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মাসুদ তাঁর বাড়ির সামনে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের কূপে মফিদুলের মরদেহ রেখে স্ল্যাব (ঢাকনা) দিয়ে ঢেকে দেন।
নিহত মফিদুল ইসলামের ছোট ভাই সুমন রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই (মফিদুল) অত্যন্ত সহজ–সরল মানুষ। তাঁর সঙ্গে গ্রামের কারও দ্বন্দ্ব নেই। আমার ভাইয়ের হত্যাকারী মাসুদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, সে জন্য পুলিশ ও সরকারের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাই।’