কারাগারে দুধ বিক্রি বন্ধ করলেন সেই ডিআইজি প্রিজন
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজের খামারের দুধ বিক্রি বন্ধ করলেন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) টিপু সুলতান। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর বাংলো থেকে ড্রামভর্তি দুধের ভ্যান নেওয়া হয়নি কারাগারে।
ডিআইজি প্রিজনের বাংলো থেকে ভ্যানে করে ড্রামভর্তি দুধ প্রতিদিন নিয়ে যেতেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আলমগীর ও সুরেশ চন্দ্র দাস। জানতে চাইলে আজ দুপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, আজকে কারাগারে দুধ নিয়ে যাননি। কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো স্যারদের বিষয়। নিষেধ করাতে নেওয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতানকে ফোন করা হলে তিনি না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। টিপু সুলতান চট্টগ্রামে যোগ দিয়েছেন গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি। ময়মনসিংহ থেকে আসার সময় গরুগুলো সঙ্গে নিয়ে আসেন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে দুধ বিক্রি করে আসছেন।
পরে দুপুরে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারে দুধ পাঠানো বন্ধ। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
আজ প্রথম আলোয় ‘চট্টগ্রাম কারাগারে দুধ বিক্রি করছেন ডিআইজি প্রিজন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবিধি অনুযায়ী, কোনো কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বন্দীদের কাছে কোনো সামগ্রী বিক্রি কিংবা ভাড়া দিতে পারেন না। তা ছাড়া এভাবে তরল দুধ সরবরাহ করা বন্দীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে জানিয়েছেন সাবেক কারা কর্মকর্তারা।
ডিআইজি প্রিজনের কার্যালয় নগরের লালদীঘির পাড়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্বের সীমানাদেয়াল–সংলগ্ন এলাকায়। কার্যালয়ের পাশেই তাঁর বাংলো। বাংলোর সামনে ১৩টি গরু-বাছুর পালন করেন তিনি। এগুলো দেখভাল করেন সরকারি বেতনভুক্ত কারাগারের চার পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার)। এই চারজন বাইরে গরুর খামারে ব্যস্ত থাকায় বাকি পাঁচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে প্রায় পাঁচ হাজার বন্দীর কারাগার পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়।
কারাগারে বন্দীদের প্রতিদিন দুই বেলা খাবার ও সকালের নাশতা দেওয়া হয়। এ জন্য কারাগারে ছয়জন নির্দিষ্ট ঠিকাদার রয়েছেন। তাঁরা চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংসসহ যাবতীয় শুকনা খাবার সরবরাহ করে থাকেন। এসব খাবার কারাগারে রান্না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বন্দীদের পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া কারাগারে থাকা ক্যানটিন থেকে বন্দীরা খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন। বন্দীদের পিসিতে (প্রিজনার ক্যাশ) টাকা জমা দিতে পারেন স্বজনেরা। পিসির টাকা বন্দীরা ক্যানটিনে খরচ করতে পারেন। ক্যানটিনটি চালান কারাগারের কর্মকর্তারা।
বাইরে থেকে দুধসহ রান্না করা কোনো খাবার কারাবন্দীদের দেওয়ার নিয়ম নেই। কেউ দিতেও পারে না। কিন্তু ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান নিয়ম মানেননি। ১০ মাস ধরে নিয়মিত তাঁর খামার থেকে গড়ে ২০ লিটার করে দুধ কারা ক্যানটিনে সরবরাহ করা হতো। বাইরে খুচরা মূল্য ৮০ টাকা লিটার, পাইকারি দর ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ডিআইজি প্রিজন কারাগারে বিক্রি করেছেন ১০০ টাকা দরে। সেই হিসাবে দৈনিক ২ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করতেন তিনি।