মরিচখেতে পড়ে ছিল ককটেল, নাড়াচাড়া করতেই বিস্ফোরণে উড়ে গেল শিশুর কবজি

ককটেল বিস্ফোরণে শিশুর হাত ওড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। আজ দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের জাজিরায় ফসলি জমিতে পড়ে থাকা একটি ককটেল বিস্ফোরণে রাহাত মাদবর (১০) নামের এক শিশুর ডান হাতের কবজি উড়ে গেছে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাহাত ওই এলাকার শামসুল মাদবরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় রাহাত বাড়িতে ছিল। সকালে বাড়ির পাশের একটি কৃষিজমিতে মরিচ তুলতে যায় সে। এ সময় মরিচগাছের নিচে লাল রঙের স্কচটেপে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পায়। সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার একপর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটে।

রাহাতের চিৎকার শুনে স্বজনেরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আহমদ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে শিশুটির ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতের পাঁচটি আঙুলই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচার করেও সেগুলো পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে না।

রাহাতের চাচা চুন্নু মাদবর বলেন, খেলতে খেলতে সে বাড়ির পাশের মরিচখেতে গিয়েছিল। সেখানে কে বা কারা ককটেলটি রেখে গেছে, তা তাঁরা জানেন না। হাতে নেওয়ার পর নাড়াচাড়া করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরিত ককটেলের নমুনা সংগ্রহ করেছে জানিয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, জমিতে কারা ককটেল রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।