রাজশাহীতে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অভিযুক্তকে ছুরিকাঘাত

রাজশাহীতে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের গৌরহাঙ্গা এলাকায়ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে চোর সন্দেহে দুই তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। খবর পেয়ে আরও দুই তরুণ সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাধা দেওয়া তরুণদের একজন অভিযুক্তকে ছুরিকাঘাত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরের গৌরহাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ছুরিকাঘাতের পর দুই তরুণ পালিয়ে গেলেও অন্য দুজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার দুই তরুণ হলেন নগরের বোয়ালিয়া থানার জোলাপাড়া লাইনপাড়া মহল্লার মো. মিজান (২৫) ও ষষ্ঠীতলা এলাকার তন্ময় তেওয়ারী (২৫)।

গৌরহাঙ্গা এলাকার মাসুদ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মাসুদ রানা তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটান। মাসুদের বাড়ি নগরের সায়েরগাছা এলাকায়। ছুরিকাহত হয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শ্যামলী খাতুন বাদী হয়ে আটক দুই তরুণসহ চারজনের বিরুদ্ধে শুক্রবার বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসুদ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে প্রায় সময় বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র চুরি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তন্ময় তেওয়ারীকে আটক করেন। পরে তন্ময় চুরিতে জড়িত হিসেবে মিজানের নাম জানান। পরে মিজানকেও ধরে এনে তন্ময়ের সঙ্গে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় গৌরহাঙ্গা এলাকার মো. আল-আমিন ওরফে রিমন (২২) ও মো. শুভ (২৩) নামের দুজন বাধা দেন। তাঁরা মাসুদ রানার সঙ্গে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে রিমন পকেট থেকে একটি চাকু বের করে মাসুদের পিঠে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রিমন ও তন্ময়কে আটক করে। এ সময় শুভ ও মিজান পালিয়ে যান। পরে মাসুদ রানাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুই তরুণকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদ রানা ছুরিকাহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তাঁর মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মোস্তারি বলেন, নির্যাতনের ঘটনা জানা নেই। ছুরিকাঘাতের অভিযোগে দুজনকে পুলিশে দিয়ে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।