ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আশ্বাস সেতুমন্ত্রীর

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের দুই লেনের সড়ক আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর প্রস্তুতিও রয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এ সময়  বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনো দুই লেনের। স্বাভাবিক চলাচল প্রশ্নে এটা অত্যন্ত সরু। এই মহাসড়ক আরও চওড়া করা দরকার। এটা সরকার উপলব্ধি করেছে। এবার এসে আমিও নিজ চোখে দেখে গেলাম। দ্রুত কীভাবে কাজটা শুরু করা যায়, সেই পরিকল্পনা সরকারের আছে। আশা করি শিগগিরই আপনারা সুখবর পাবেন।’

ঈদ উদ্‌যাপনে আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করেছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবেন।’

নৌপথের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিয়মিত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিং করে সচল রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে বর্তমানে খননকাজ চলছে এবং আরও সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সদরঘাট থেকে বরিশাল ও ভোলা নৌপথে নিরবচ্ছিন্ন নৌযান চলাচল সম্ভব হবে।

গোমা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ সেতুটি এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সওজ সূত্র জানায়, এই সেতু নির্মাণের ফলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালীর সরাসরি যোগাযোগ হবে। এতে দুই জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ঘটবে। এতে সময় বাঁচবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের সেতুটির সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা
ছবি: প্রথম আলো

২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতু নির্মাণের কাজের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার পাঁচ বছর পর নির্মাণের ফলে এই সেতুর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ ভাগের বেশি।

সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, শুরুতে সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানানো হলে নকশা সংশোধন করা হয়। প্রথম নকশায় সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ৭ দশমিক ৬২ মিটার ধরা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয় এবং মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়। ‘স্টিল ট্রাস’ যুক্ত এই ধরনের সেতু দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম নির্মাণ হয়েছে। ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এই সেতুটির নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদীশাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।