যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করায় ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে গোল্ডেন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও এর কাউন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ব্যবস্থা নেন।
গতকাল বিকেলে যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন। তিনি গোল্ডেন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সময় একটি লোকাল বাসের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সুপারভাইজারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দেড় গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউএনও মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে অবস্থান নেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চাঁদপুর বাসস্টান্ডে বাসটি পৌঁছানোর পর ভ্রাম্যমাণ আদালত যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পান।
যাত্রীরা জানান, আগে ভাড়া ছিল ৮০০ টাকা। ঈদযাত্রায় বর্তমানে ১ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। বাসের সুপারভাইজার মো. আবদুল্লাহ ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে গোল্ডেন লাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান। পরিবহনের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর বাসের সুপারভাইজারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ইউএনও মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভাড়া বেশি নেওয়ার অপরাধে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে (সুপারভাইজার) ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পরিবহন কোম্পানির পক্ষ থেকে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়।
এদিকে গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টারে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান। বেশি ভাড়া আদায় করায় কাউন্টার কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বোয়ালমারী রুটে জনপ্রতি নির্ধারিত ভাড়া ৫০০ টাকা। কিন্তু ঈদের সময় ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে ইউএনও এস এম রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কাউন্টার কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান বলেন, গোল্ডেন লাইন বাস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জরিমানার টাকা ওই কাউন্টার থেকে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা হয়।
এ সম্পর্কে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম (বাচ্চু) প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুই জরিমানার টাকা মালিকপক্ষ পরিশোধ করেছে। ঈদে যেহেতু বাসে একমুখী যাত্রী পাওয়া যায়, এ জন্য ভাড়া ১০০ টাকা করে বাড়ানো হয়। এবারও বোয়ালমারী-ঢাকা পথে ওই টাকাই বাড়ানো হয়েছে। তারপরও এই জরিমানা করা হয়েছে।
রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘রাজবাড়ীর কালুখালীতে এসি বাসে জরিমানা করা হয়েছে। বাসটি মেহেরপুর–ঢাকা রুটের; ভাড়া ১২০০ টাকা। যাত্রীর চাপ কম হলে আমরা কম ভাড়া নিতাম। ঈদে যাত্রীর একমুখী চাপ থাকায় নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কালুখালীতে ওই বাসের কোনো আসন বরাদ্দ ছিল না। সেখান থেকে যাত্রী উঠলে, নিয়ম অনুযায়ী সূচনাস্থল থেকেই ভাড়া ধরা হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে তাই করা হয়েছে। তা ছাড়া এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করেনি। আমাদের প্রতি ইনজাস্টিস (অবিচার) করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আপিল করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’