নির্যাতনের শিকার তিন তরুণ হলেন মামুন গাজী (২০), সাগর মিয়া (১৮) ও তুহিন মিয়া (১৮)। তাঁরা ফেলনা বোতলসহ পরিত্যক্ত তৈজসপত্র সংগ্রহ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, গতকাল বেলা তিনটার দিকে মধ্যশিহিপাশা গ্রামের প্রবাসী মোকলেস সরদারের বাড়িতে প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করতে যান ওই তিন তরুণ। কিছু সময় পর প্রবাসীর স্ত্রী লাকী বেগম টিউওবয়েলে পানি আনতে গিয়ে দেখেন, টিউওবয়েলের ওপরের অংশ নেই। এ সময় তিনি তরুণদের চোর সন্দেহ করে জোরে চিৎকার দেন। লাকি বেগমের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম, ছালাম সরদার, আসিফ সরদারসহ ১০-১২ জন মিলে তিন তরুণকে ধাওয়া করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের তিনজনকে গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য হানিফ সরদারের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে একটি গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে গৈলা ইউপির চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম তালুকদার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন তরুণকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তিন তরুণকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

মামুন গাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা টিউবয়েলের হেড চুরি করিনি। আমরা অনুনয়-বিনয় করে বললেও তাঁদের মন গলেনি। আমাদের গাছে বেঁধে নির্দয়ভাবে মেরেছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আসামি নুর ইসলাম বলেন, গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়নি। ওই তিন তরুণ টিউবওয়েলের ওপরের অংশ চুরি করেছেন, এমন অভিযোগে চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি ছালাম সরদার ও আসিফ সরদারও গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই তরুণেরা চুরি করলে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা যেত। কিন্তু এভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা ঠিক হয়নি।

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিন তরুণকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।