বউভাতে নবদম্পতিকে অকটেন উপহার দিলেন বন্ধুরা
চলমান জ্বালানিসংকটের প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেও স্পষ্ট। প্রতিদিনই পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের। এমন বাস্তবতার মধ্যেই এক নবদম্পতির বউভাত অনুষ্ঠানে দেওয়া হলো ব্যতিক্রমী অথচ সময়োপযোগী উপহার—অকটেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের সুমন পাল এবং চুনারুঘাট উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের পলি পাল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আজ শুক্রবার ছিল তাঁদের বউভাত অনুষ্ঠান।
বউভাতের অনুষ্ঠানে যখন অন্য অতিথিরা প্রচলিত উপহার—গৃহস্থালি সামগ্রী, পোশাক কিংবা শোপিস নিয়ে হাজির হন, তখন বরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজেশ ভৌমিক, দীপ্ত, নারায়ণ, রুপন ও রাজন একেবারেই ভিন্ন কিছু নিয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা নবদম্পতির জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন ৫ লিটার অকটেন, যা তিনটি প্লাস্টিক বোতলে ভরে সাজিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এই ব্যতিক্রমী উপহার মুহূর্তেই উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি কাড়ে। কেউ বিস্মিত, কেউবা হাস্যরসে মেতে ওঠেন। অনুষ্ঠানে তৈরি হয় এক ভিন্নধর্মী আনন্দঘন পরিবেশ।
বন্ধুদের পক্ষ থেকে রাজেশ ভৌমিক বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা যেন একধরনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন পেট্রলপাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আমার বন্ধু সবে বিয়ে করেছে। নতুন জীবনের শুরুতেই যেন সে এই ভোগান্তিতে না পড়ে, সেই ভাবনা থেকেই আমরা একটু ভিন্নভাবে ভাবলাম। তাই প্রচলিত উপহারের বাইরে গিয়ে অকটেন উপহার দিয়েছি। এটি যেমন বাস্তব কাজে লাগবে, তেমনি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিরও একটি বার্তা বহন করে।’
এমন ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে খুশি বর সুমন পাল। তিনি বলেন, ‘বন্ধুদের এই উপহার আমার কাছে সত্যিই বিশেষ। আমার একটি মোটরসাইকেল আছে, আর তেল সংগ্রহ করতে যে কষ্ট করতে হয়, তা বলার মতো নয়। তারা আমার প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই উপহার দিয়েছে। এটি শুধু মজার নয়, আমার জন্য খুবই কার্যকরও। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানের অতিথি মৃদুল দেব বলেন, এ ধরনের উপহার শুধু আনন্দের উপলক্ষই তৈরি করেনি, বরং বর্তমান জ্বালানিসংকটের বাস্তব চিত্রটিও ভিন্নভাবে তুলে ধরেছে। নবদম্পতির জীবনের নতুন অধ্যায়ে এমন একটি উপহার নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।