হেলিকপ্টারে বর–কনে এলেন বাড়িতে, মানুষের ভিড়

হেলিকপ্টারে করে নববধূকে নিয়ে বাড়ি এসেছেন প্রবাসী মোরশেদ। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বোয়ালিয়ারকুল এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

হেলিকপ্টারে করে বউ আনার শখ তাঁর দীর্ঘদিনের। এবার সেই শখ পূরণ করলেন। এই বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী মোরশেদ আলম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি হেলিকপ্টারে নববধূকে নিয়ে বাড়ি এসেছেন।

আজ দুপুরে যখন তাঁকে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার তাঁর বাড়ির পাশে খোলা মাঠে নামে, তখন সেখানে মানুষের ঢল নামে। একইভাবে বিয়ে শেষ করে বউকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বিকেলে বাড়ি ফেরার পর বরযাত্রীরা শুধু নয়, এলাকার হাজারো কৌতূহলী বাসিন্দা হেলিকপ্টার ও বর-কনেকে দেখতে মাঠে ভিড় করেন। আর তখনই এলাকাবাসী নববধূর নাম দেন ‘হেলিকপ্টার বৌ’।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, মোরশেদ সম্পর্কে তার আত্মীয় হন। সে কারণে তিনিও বিয়েবাড়িতে ছিলেন। যখন হেলিকপ্টার এসে বাড়ির পাশে নামে, তখন তাঁরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। যখন হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা গেল, বাড়িতে থাকা বরযাত্রীরা মাঠে চলে যান হেলিকপ্টার দেখতে।

শওকত আলী আরও বলেন, মোরশেদ তেমন সামর্থ্যবান না হলেও ছোটবেলা থেকেই তিনি বলতেন, হেলিকপ্টারে করে বউ আনবেন। সেই হিসেবে বিদেশে যাওয়ার পর প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সেই স্বপ্ন ও শখ পূরণ করেছেন মোরশেদ। আর এ রকম একটা ইতিহাসের সাক্ষী শওকত আলীও।

বর মোরশেদ সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়াকুল গ্রামের মরহুম মফিজুর রহমানের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মোরশেদ সবার ছোট। তিনি তাঁর বাড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সলিমপুর ইউনিয়নের কালুশাহনগর জাফরাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ মাহাবুল আলমের মেয়ে লাকি আক্তারকে বিয়ে করেছেন।

মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দুবাই প্রবাসী হয়েছেন ২০১২ সালে। তখন অর্থের অভাবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। কিন্তু শখ ছিল, যেদিন বিয়ে করবেন, সেদিন হেলিকপ্টারে করে বউকে বাড়িতে আনবেন। দুবাই থাকা অবস্থায় এক বছর আগেই তাঁর বিয়ে ঠিক হয় লাকি আক্তারের সঙ্গে। তারপর তিনি কবে দেশে ফিরবেন, অপেক্ষার সময় যেন কাটছিল না। বড় ভাইদের বলেছেন, হেলিকপ্টারে করে বউ আনতে গেলে কত টাকা লাগতে পারে। তাঁরা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গিয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে জানান, দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাগতে পারে। পরে তিনি গত ২২ জানুয়ারি দেশে ফেরেন। এক সপ্তাহ আগে তাঁর বড় ভাই গিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন।

মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, আজ তিনি জীবনের অন্তত একটি শখ পূরণ করতে পারলেন। তাঁর বিয়ের খবর এলাকার সবার মুখে মুখে হওয়ায় তাঁর কাছেও ভালো লাগছে।

হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাচ্ছেন প্রবাসী মোরশেদ। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের কেএম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে
ছবি: সংগৃহীত

মোরশেদ জানান, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাদশা ফেয়ার ল্যান্ড নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে। কমিউনিটি সেন্টারটি তাঁর শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি। প্রথমে দুপুরে হেলিকপ্টার তাঁর বাড়ির কাছে মাঠে অবতরণ করে। তারপর তিনি বরের বেশে হেলিকপ্টারে চড়ে চলে যান কমিউনিটি সেন্টারের কাছাকাছি ফৌজদারহাট কে এম হাইস্কুলের মাঠে। সেখান থেকে ব্যক্তিগত কারে কমিউনিটি সেন্টারে যান। এরপর বিয়ে শেষে বউকে নিয়ে আবার কে এম হাইস্কুলের মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ির পাশের মাঠে নামেন। এরপর বউকে ঘরে তুলে নেন।