শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলার দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
রাজধানী ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যা মামলার দুই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে জেলার সীতাকুণ্ডের একটি হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ফারুক হোসেন ওরফে রিপন মাস্টার এবং বাদল। তাঁদের মধ্যে ফারুক হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা যুবদলের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায় দুই সন্ত্রাসী সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছে। পরে হোটেল অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাঁদের ঢাকা থেকে আসা একটি দল নিয়ে যায়।’
মাসুদ আলম বলেন, দুজনের বিরুদ্ধে টিটন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর বছিলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা না পেয়ে গুলি; এ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিল টিটনের নাম। টিটন হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তাঁর বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন, মায়ের নাম আকলিমা বেগম। পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।
২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।