আশপাশের এলাকার ছেলেমেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। চলাচলের সুবিধার জন্য শুকনা মৌসুমে এলাকার লোকজন ১০০ গজের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। তবে বর্ষায় পানিতে বাঁশের সাঁকো ডুবে গেলে নৌকা দিয়ে চলাচল করেন লোকজন। ফলে দুই পাড়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

দাড়িয়াপুর এস এ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ বলেন, শিক্ষার্থীরা নৌকা ও বাঁশের সরু সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় গত ৫০ বছরে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। নৌকাডুবিতে প্রাণও চলে গেছে ওই নদে।

স্থানীয় লোকজন বলেন, সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর, চাকলাপাড়া, কৈয়ামধু, বেতুয়া, দেওবাড়ী, লাঙ্গুলিয়া ও বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ী, কল্যাণপুর, বালিয়া, ডুমনীবাড়ী, সুন্না, বার্থা, কলিয়া ও কাউলজানী গ্রামের লোকজন এ সাঁকো ব্যবহার করে।

বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও বরইতলা ঘাটে কোনো সেতু নির্মাণ করা হলো না। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি সবাই এত দিন শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, কেউ তাঁদের কথা রাখেনি।

গিলাবাড়ী গ্রামের কৃষক গোলাম রাব্বানী জানান, ওই নদে সেতু থাকলে খাদ্যশস্য, শাকসবজি ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে সখীপুর যেতে ৮ কিলোমিটার রাস্তা পাড়া দেওয়া লাগত। অথচ এখন ৩০ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরতে হয়। গর্ভবর্তী নারী ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, ওই নদে সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তিনিও সেতুটি নির্মাণের চেষ্টা করছেন।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, ইতিপূর্বে সেতুটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সেতুটি নির্মাণের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।