উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলন শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরই পদত্যাগ করেন মো. সাফায়েত হোসেন ভূঁইয়া। তাঁকে নতুন কমিটিতে দপ্তর সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছিল।

পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাফায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিগত একাধিক নির্বাচনে যারা নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরোধিতা করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকে তিনি পদত্যাগের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সাফায়েত হোসেন ভূঁইয়া গতকালই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পদত্যাগের বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লিখিত পদত্যাগপত্র আজ শনিবার জেলা আওয়ামী লীগে কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। পরে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা পদত্যাগ বিবৃতির একটি কপি এ প্রতিনিধির কাছে পাঠিয়ে দেন।

সাফায়েত হোসেন ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘১৯ বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যে নেতার নামগন্ধ ছিল না। যাঁর নামে কোনো স্লোগান উচ্চারিত হয়নি। যিনি কোনো পোস্টার-ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা করেননি। এমন একজন নেতাকে নতুন কমিটিতে বড় পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি ছাত্রজীবনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় পদে থেকে সাংগঠনিক রাজনীতি করেছি। দলের প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। অথচ ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিতে আমাকে দেওয়া হয়েছে ১৪ নম্বর ক্রমের দপ্তর সম্পাদক পদ। এটি তো মাঠ পর্যায়ের একজন নেতার সরাসরি অপমান। দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের কমিটিতে যদি বড় পদ দেওয়া হতে পারে, তাহলে আদর্শে অটল নেতাকে কী মূল্যায়ন করা হলো।’

সাফায়েত হোসেন আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে তিনি পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই নতুন কমিটির দপ্তর সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে লিখে দেওয়া ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবদুছ ছাত্তার সভাপতি ও মো. ছাফির উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন