খুলনায় আওয়ামী লীগের মিছিল দমনে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’র প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

খুলনাকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের গুপ্ত মিছিল ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে। সোমবার খুলনার ডাকবাংলা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

আওয়ামী লীগের কেউ দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা বিএনপির নেতারা। তাঁরা বলেছেন, স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে গিয়েও থেমে নেই; দেশে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। স্বৈরাচারের দোসররা সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কীভাবে আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিল করল, খুলনাবাসী তা জানতে চায়।

আজ সোমবার বিকেলে নগরের কেডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ‘পতিত স্বৈরাচার খুনি হাসিনার দোসরদের নৈরাজ্য, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার’ প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল–পূর্ব সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ প্রকাশ্যে উন্মোচন করতে হবে। আবার যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কঠোর হস্তে এর জবাব দিতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এ দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে সফলতা এসেছে, তার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

অবিলম্বে মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে বিএনপির নেতারা বলেন, খুলনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—পুলিশ প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বক্তারা বলেন, বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিএনপিকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। বিএনপি ঘুরে দাঁড়ালে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনই দায়ী থাকবে। খুলনার মাটিতে কোনো আওয়ামী লীগের, কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলমের (মনা) সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম (তুহিন), জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোমরেজুল ইসলাম, খান জুলফিকার আলী, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, শেখ তৈয়েবুর রহমান, গাজী তফসির আহমেদ, জি এম কামরুজ্জামান, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হাসান, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম, আবুল কালাম, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক, সদর থানা বিএনপির সভাপতির কে এম হ‌ুমায়ূন কবির প্রমুখ।

দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কেডি ঘোষ রোড, পিসি রায় রোড, যশোর রোড হয়ে ফেরিঘাট মোড় ঘুরে স্যার ইকবাল রোড দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।