লালমনিরহাটের প্রায় হাজার কেজির ষাঁড়টি এবারও বিক্রি হয়নি
প্রায় এক হাজার কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি এবারও বিক্রি হয়নি। গত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে লালমনিরহাটের বাইরে থেকে কয়েকটি জেলার পাইকারেরা ষাঁড়টির দাম বললেও এবার এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ দেখাননি বলে জানিয়েছেন খামারমালিক।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব দৈলজোর এলাকার আয়কর আইনজীবী মজমুল হোসেন প্রামাণিকের মালিকানাধীন ‘মৌরি অ্যাগ্রো ট্রেডার্স’-এ ষাঁড়টি পালন করা হচ্ছে।
গত সোমবার দুপুরে খামারে গিয়ে দেখা যায়, ধূসর-ছাই রঙের বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি পাকা মেঝেতে বসে আছে। খামারের কর্মীদের ভাষ্য, এটি চঞ্চল স্বভাবের এবং লাফঝাঁপ করে। আদর করে তাঁরা ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘জায়েদ খান’।
খামারের তত্ত্বাবধায়ক নবুর হোসেন বলেন, তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে এই খামারে কাজ করছেন। এত বড় ষাঁড় কোরবানির সময়ও যদি বিক্রি না হয়, তাহলে আর কবে হবে? মালিক খুব চিন্তায় আছেন।
খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ষাঁড়টির পেছনে প্রতিদিনের খাবার খরচ চার থেকে পাঁচ শ টাকা। স্থানীয় গরুর পাইকার সলু মিয়া বলেন, এত বড় গরুর ক্রেতা এই এলাকায় খুব কম। তাই ষাঁড়টি বিক্রি করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
খামারমালিক মজমুল হোসেন প্রামাণিক বলেন, ষাঁড়টির বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। দৈর্ঘ্য-প্রস্থের হিসাবে এর ওজন এক হাজার কেজির কম নয়। গত বছর ঈদের আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের পাইকারেরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাত থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করেছিলেন। তবে তিনি ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। আফসোসের সুরে তিনি বলেন, ‘ঈদের বাজারে এমন দাম অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এবার একজন পাইকারও দাম বললেন না।’
মজমুল হোসেন বলেন, এবারের ঈদের মৌসুমে তাঁর খামারের আরও ছয়টি গরু ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় সেটি বিক্রি করছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘কম দামে বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে। এখনো কেউ উপযুক্ত দাম দিলে আমরা উপকৃত হতাম। এত বড় গরু নিয়ে এখন বিপদেই আছি।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জায়েদ খান’ নামে ষাঁড়টির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই অনেকে খামারে এসে সেটির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও করছেন।