বেতন বাড়ানোর দাবিতে দোকান কর্মচারীদের মানববন্ধন

সাত দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন
ছবি: প্রথম আলো

বরিশালে দোকান কর্মচারী গৌরাঙ্গ দাসকে মারধরের বিচার, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, বেতন বৃদ্ধিসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের চকবাজার এলাকার ফলপট্টি মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে তারা জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, চকবাজারের আহমেদ ব্রাদার্সের দোকান কর্মচারী গৌরাঙ্গ দাসকে মালিকপক্ষ মারধর করেছে। এমনকি তাঁর যাবতীয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করে তাঁরা গৌরাঙ্গ দাসের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ‘আমরা র্দীর্ঘদিন ধরে দোকান কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, সার্ভিস বই, সপ্তাহে দেড় দিন ছুটির দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের দাবি বছরের পর বছর অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে মালিকপক্ষ।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে চাল-ডালসহ দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি আর দোকান কর্মচারীদের যে বেতন দেওয়া হয়, তাতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার মতো অবস্থা নেই। তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও দোকান কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা করতে হবে। একই সঙ্গে কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধসহ সাত দফা দাবি পূরণ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

মহানগর দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিকনেতা এ কে আজাদ, অপূর্ব গৌতম, আলাউদ্দিন মোল্লা, শেখ আবুল হাশেম, গৌরাঙ্গ দাস, আখতার রহমান, আবু সাঈদ, আবুল বাসার আকন, তুষার সেন, রনি তালুকদার, মহেন্দ্র সাহা প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার (নেজারত) মো. মুশফিকুর রহমান অবস্থানকারীদের বক্তব্য শোনেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে দোকান কর্মচারীরা মুশফিকুর রহমানের কাছে সাত দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

সাত দফা দাবির উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে—কাজের সময় আট ঘণ্টা নিশ্চিত করা, এর বেশি কাজ করালে শ্রম আইন অনুযায়ী ওভার টাইম দিতে হবে; চাকরির শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান; শ্রম আইন অনুযায়ী দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের সপ্তাহে দেড় দিন ছুটি দেওয়া; সাপ্তাহিক ছুটিসহ ঈদ, ধর্মীয় উৎসবসমূহ, একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, শ্রমিক দিবস, জাতীয় শোক দিবস, ১৬ ডিসেম্বরে ছুটি; নৈমিত্তিক ছুটি বছরে মোট ১০ দিন (পূর্ণ মজুরিতে); দুই ঈদে দুটি বোনাস, দুর্ঘটনায় কর্মচারী আহত বা নিহত হলে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান; কথায় কথায় ছাঁটাই, বরখাস্ত ও নির্যাতন করা বন্ধ করতে হবে।