প্রাডো থামাতেই বেরিয়ে এল ৩ লাখ ইয়াবা

ইয়াবার বড় চালান নিয়ে প্রাডো গাড়িতে করে ঢাকার পথে যাওয়ার পথে কুমিল্লায় আটক করে ডিবি পুলিশ। সোমবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জাগুরজুলি বিশ্বরোড সংলগ্ন কৃষ্ণনগর এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ল্যান্ড ক্রুইজার প্রাডো গাড়িতে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাচ্ছিল ইয়াবার চালান। চট্টগ্রামে এক দিন যাত্রাবিরতি নিয়ে ওই গাড়ির চালক ও যাত্রী আজ আবার গন্তব্যের দিকে ছোটেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় পৌঁছালে গাড়িটিতে তল্লাশি চালান গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। এ সময় পাওয়া যায় তিন লাখ ইয়াবা বড়ি।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার স্বর্ণফুল গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২৫) এবং একই উপজেলার ফুলতলা গ্রামের গাড়িচালক আমান উল্লাহ (৩৫)। পুলিশের দাবি, জব্দ করা ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা।

গাড়িটি কার সেটা এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। যেই দুজনকে আটক করা হয়েছে—তারা কীভাবে গাড়িটি ব্যবহার করছে, সেই সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়িটির প্রকৃত মালিকের বিস্তারিত জানতে বিআরটিএ—তে চিঠি দেবে পুলিশ।
মো. আনিসুজ্জামান, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা
বিলাসবহুল এই গাড়িতে করে নেওয়া হচ্ছিল ৩ লাখ ইয়াবার চালান
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে মাদকের চালান বহনকারী গাড়িটিকে অনুসরণ শুরু করে। পরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার কৃষ্ণনগর এলাকায় গাড়িটি আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নীল রঙের একটি লাগেজের ভেতর বিশেষ কায়দায় রাখা তিন লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাসহ গাড়ির চালক ও যাত্রীকে আটক করা হয়।

আটক দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তাঁরা গতকাল রোববার রাতে ইয়াবার চালান নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর রাতে তাঁরা চট্টগ্রামে অবস্থান করেন। আজ সকালে চট্টগ্রাম থেকে আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ইয়াবার বড় চালান জব্দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গতকাল থেকে কুমিল্লার প্রতিটি থানায় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এমন সময়ই ইয়াবার বড় একটি চালান তাঁরা আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ সুপারের দাবি কুমিল্লায় আটক হওয়া এটি ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশ সুপার জানান, তাঁর জানা মতে কুমিল্লা আটক হওয়া এটি সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এর আগে ১৮ জুন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় লবণের বস্তার আড়ালে পাচারকালে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে ৩ লাখ পিস ইয়াবা আটক আমার জানামতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ উদ্ধার।’

বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িতে করে মাদক পাচার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, 'এটি আমাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। গাড়িটি কার সেটা এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি। যেই দুজনকে আটক করা হয়েছে—তারা কীভাবে গাড়িটি ব্যবহার করছে, সেই সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়িটির প্রকৃত মালিকের বিস্তারিত জানতে বিআরটিএ—তে চিঠি দেবে পুলিশ।’