নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি দেখা গেছে, বহিরাগতদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে এবং মারধর শেষে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আমরা আজকের এই কর্মসূচি পালন করছি।’
শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ও অফিসার সমিতির সদস্য রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমরা এখানে চাকরি করতে এসেছি, মার খেতে আসিনি। আমাদের যে কেউ মারবে, যা খুশি করবে, এটা তো আমরা মেনে নিব না। আমার নামে যদি কোনো মামলা থাকে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসন আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। আমাদের ধরে নিয়ে গিয়ে মারবে, টাকা খাবে, টাকা না দিলে হাতুড়িপেটা করবে—এটা তো হতে পারে না। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অফিসার সমিতি জানায়, অফিস চলাকালীন এবং অফিস থেকে ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের নীরবতা অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তারা। এর আগে একই দাবিতে গতকাল বুধবার ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
গত রোববার ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিনোদপুর বাজার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আহসান হাবীবকে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি রাজশাহী নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা।
অন্যদিকে রাজশাহীর পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরেবাংলা হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হানিফ মো. পলাশকে নগরের মেহেরচণ্ডী কড়াইতলা মোড়ে একদল লোক আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।