বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এক থেকে দেড় বছরের সেশনজট তৈরি হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল থেকে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তাঁরা।
এর আগের দিন গতকাল রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে বিভাগটির চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হককে অপসারণের জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা অনশনে বসেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা চলছে। এর সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও সেশনজটের কারণে তাঁদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
২০১৭ সালে বিভাগটি চালু হলেও এ পর্যন্ত মাত্র দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছেন। বাকি আটটি ব্যাচ এখনো চলমান। শিক্ষার্থীদের দাবি, এতে শিক্ষার্থীরা এক থেকে দেড় বছরের সেশনজটে পড়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দফা আলোচনা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছি। তাঁকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।’
একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্বে চেয়ারম্যান
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগ চালুর পর থেকেই হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন একই পদে থাকার কারণে তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন। তাঁর নামে একাধিক কোর্স থাকলেও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না। একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকার কারণেও তাঁর নামে থাকা কোর্সগুলো সময়মতো শেষ হয় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।মেহেদি হাসান, প্রক্টর
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মুসাব্বিরা জাবিন বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। অথচ এই সময়ে মাত্র দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে বের হয়েছে। বাকি আটটি ব্যাচ এখনো চলমান।’
সোমবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে অনশনরত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকাল নয়টায় উপাচার্যের কাছে দাবি–সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা আমরণ অনশন শুরু করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’
উপাচার্য মামুন অর রশিদের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে হাফিজ আশরাফুল হক গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে চেয়ারম্যান ও ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডিন ক্যাটাগরিতে তিনি সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১০ মাস ধরে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বেও আছেন।
হাফিজ আশরাফুল হকের দাবি, ‘এসব দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত কোনো প্রভাব বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমাকে এসব দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।’
আজ সোমবার বিকেলে আশরাফুল হকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো আপডেট নেই। থাকলে আপনাকে জানাব।’