এরপর ২০১০ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় পাঠদানের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এরপর দীর্ঘ দিন পার হয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্প্রতি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কলেজ শাখার সহকারী পরিদর্শক আবুল বাশার, শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী সংঘের সভাপতি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তবে এখনো বিদ্যালয়টি পাঠদানের কোনো অনুমতি পায়নি। অনুমতি না পেলেও বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে ৩১ শিক্ষার্থীর নিবন্ধন করা হয়েছে।

বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষা বোর্ডের একটি চক্রের যোগসাজশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ জালিয়াতি করে আসছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রতিবেদন দেওয়ার কাজটি মূলত শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শন বিভাগের দায়িত্ব। সেখানে এটা করেছেন সহকারী কলেজ পরিদর্শক।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক পার্শিয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঠদান বাতিল হওয়ার পর আমরা নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু এরপর আর পরিদর্শন হয়নি। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সহকারী কলেজ পরিদর্শক এসে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে গেছেন।’
পাঠদান অনুমতি না পেলেও কীভাবে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করা হলো, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধনের জন্য ওয়েবসাইটে আমাদের অ্যাকসেস ছিল। সেটার মাধ্যমে করেছি।’

বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের ব্যাপারে সহকারী কলেজ পরিদর্শক আবুল বাশার বলেন, তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। এরপর চেয়ারম্যান বরাবর প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। তবে নিবন্ধনের জালিয়াতির বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেন শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে ২০ নভেম্বর বোর্ড চেয়ারম্যান ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক লিয়াকত হোসেনকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে লিয়াকত হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো পাইনি।’

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ফ ম বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘জালিয়াতির মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের ৩১ শিক্ষার্থীর নিবন্ধন করা হয়েছে, এটা সত্য। আমরা এটা জানার পর সেই নিবন্ধন স্থগিত করেছি। আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে তলব করেছিলাম। তাঁরা এ ব্যাপারে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। ঘটনাটি তদন্তে আমরা কলেজ পরিদর্শককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’