ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ‘এনজিও’, ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও তাঁরা
একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচয়ে ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা। ফ্ল্যাটের সামনে ওই এনজিওর ব্যানারও টানিয়েছিলেন। কক্ষে চেয়ার ও টেবিল দিয়ে কার্যালয়ও বানানো হয়েছিল। এরপর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাসিন্দাদের ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখান তাঁরা। বাসিন্দাদের জানান, মাত্র ১০ হাজার টাকা জামানত দিলে স্বল্প সুদে এক লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়া হবে। এভাবে হাতিয়ে নেন কয়েক লাখ টাকা। তবে ঋণ না দিয়ে তাঁরা পালিয়ে যান।
গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মাল ঘর বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টাকার জন্য গ্রাহকেরা ভবনটিতে এলে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। আজ শনিবারও গ্রাহকেরা জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে ওই ভবনের সামনে অবস্থান করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনজন ব্যক্তি ‘ফ্রেন্ডস অব ডিসাবেল সোসাইটি (এফডিএস)’ নামের একটি এনজিও পরিচয় দিয়ে প্রায় এক মাস আগে থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রচার শুরু করেন। তিনজনের মধ্যে একজন নারী, আর দুজন পুরুষ। তাঁরা বাসিন্দাদের জানান, মাত্র ১০ হাজার টাকা জামানত দিলে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। আর ২০ হাজার টাকা জামানত দিলে দুই লাখ।
তবে ওই নামের কোনো এনজিওর কার্যালয় আনোয়ারায় না থাকায় প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করতে চাননি। পরে তাঁরা চার দিন আগে হাইলধর ইউনিয়নের মাল ঘর বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় খোলেন। কার্যালয় দেখে অনেকেই তাঁদের ঋণের জন্য জামানত বাবদ টাকা দেন। তবে তাঁরা এ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাঁরা অন্তত ৫০ লাখ টাকা এলাকাবাসীর কাছ থেকে আত্মসাৎ করেছেন।
টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের একজন আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হালিম। তিনি প্রথম আলোকে, ‘আমি এক লাখ টাকা ঋণের জন্য ১০ হাজার টাকা বুধবার বিকাশে পাঠিয়েছি। আগামীকাল রোববার আমাকে টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাঁদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে আজ অফিসে গিয়ে দেখি তালা দেওয়া।’
একই এলাকার কামরুন্নাহার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমাদের পাড়ায় একজন পুরুষ ও একজন নারী এসে ঋণ দেওয়ার কথা বলে পাড়ার লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেউ কেউ তাঁদের অফিস দেখে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমিও বুধবার সকালে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু রাতে খবর পাই মোবাইল বন্ধ করে তাঁরা পালিয়ে গেছেন।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়া মো. আবিদ, মো. শিহাব, শারমিন সুলতানা, মোহাম্মদ মিজান, সুলতানা আকতার, তাহেরা বেগম, মরিয়ম বেগম, রুবি আক্তার, নিশাত উদ্দিন, নাজমা খানম ও আবু সালেহ। তাঁরা সবাই আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় হাইলধর ইউপি সদস্য ফয়েজ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ জন গ্রাহক এসেছেন। তাঁদের কাছ থেকে ১০ ও ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমি ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
ভবনের মালিক নুরুল কবির বলেন, এনজিওর ব্যবস্থাপক পরিচয়ে আলী নেওয়াজ খান নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে জাতীয় পরিচয়পত্রও জমা দিয়েছেন। তবে তাঁরা ভাড়ার টাকা না দিয়েই পালিয়ে গেছেন।
জানতে চেয়ে এনজিওর ব্যবস্থাপক ও আলী নেওয়াজ খান পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তাঁর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এনজিওর জন্য ভবন ভাড়া নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ভবনের মালিক তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে আর কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে তাঁরা খোঁজ নিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাঁরা নেবেন।