কোনো দিন হয়তো শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল: সালাহউদ্দিন আহমদ

নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ । আজ সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চকরিয়া-পেকুয়া আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আজকে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এই দেশের, তারা এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করা শুরু করেছে। গতকাল সেই দলের আমির বলেছেন, এই দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নাকি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেয় নাই, তৎকালীন মেজর জিয়া দেয় নাই। কর্নেল অলি সাহেব নাকি দিয়েছেন।’

আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় এ কথাগুলো বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত প্রলাপ বকা শুরু করেছে, এটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃতি করবে, এটাই স্বাভাবিক।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জানে, আজকে তারা যে নবরূপে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধার দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা একটা প্রতারণা, ধোঁকাবাজি। তারা বলছে, তাদের নাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের জোটে যোগদান করিয়ে এবং অন্য কথায় বলতে গেলে ভাড়া নিয়েছে। তারা সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে, তাদের একটা মুক্তিযোদ্ধা আছে এবং সেই মুক্তিযোদ্ধাকে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বানাচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো দিন হয়তো আমাদের শুনতে হবে জামায়াতে ইসলামী এই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা সেটা অবশ্যই মেনে নেবেন না এবং তাঁরা প্রতিবাদ জানাবেন—আমি এ বিশ্বাস করি। এ দেশের জনগণ দেশপ্রেমিক, যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, তারা প্রতিবাদ জানাবে, আমরা জানি।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, মিথ্যা তথ্য দিতে চায়, স্বাধীনতার ইতিহাসকে যারা বিকৃত করতে চায়, তাদের ধিক্কার জানানো, নিন্দা জানানো। আমি খুব শালীন ভাষায় সেই নিন্দাটা জানালাম, তীব্র প্রতিবাদ জানালাম দলের পক্ষ থেকে।’

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী; উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম প্রমুখ।