ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যানজট নেই, উত্তরাঞ্চলে দুর্ভোগের শেষ নেই
ঈদুল আজহার দুদিন আগে মানুষ যখন ঢাকা ছেড়ে নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন, তখন মহাসড়কে যানজটের পাশাপাশি তুমুল বৃষ্টি তাঁদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী তিন জেলা গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই তিন জেলা দিয়েই মূলত ঢাকা থেকে সব যানবাহন দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যায়।
ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে তেমন যানজট নেই। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
মহাসড়কগুলো ঘুরে খবর পাঠিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।
বেশি দুর্ভোগ উত্তরের যাত্রীদের
ঘরমুখী মানুষের চাপ এবং টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১ থেকে মহাসড়কের কোনাবাড়ির পর নূরবাগ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এলাকায় যানবাহন থেমে থেমে চলছে।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় মহাসড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এ কারণে গাজীপুর অংশে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।
পুলিশ জানায়, সকাল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে কোনাবাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যাত্রী মহাসড়কের পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। বাসসংকটের কারণে কেউ কেউ খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বৃষ্টিতে এসব যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
এ ছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে বাড়ইপাড়া এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকায় থেমে থেমে চলাচল করায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখী মানুষদের।
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ফরেস্ট অফিসের সামনে মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘গাড়ি না পেয়ে ট্রাকে উঠেছিলাম। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় একেবারে ভিজে যেতে হয়েছে। যানজটের কারণে আধা ঘণ্টা রাস্তা যেতে সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি।’
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে গেছে। কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত চাপ রয়েছে। যানজট নিরসন ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
যানজট নেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে
আজ সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পরিবহন কাউন্টারগুলোয় যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে এই দুই মহাসড়কে এখনো বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি লোকাল পরিবহনেও ছিল বাড়তি চাপ। পরিবারের সদস্য ও মালামাল নিয়ে অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহন কাউন্টারগুলোয় অপেক্ষা করা যাত্রীরা। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে যান। গাড়িতে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সাইনবোর্ডে সাকিন পরিবহনের কাউন্টারম্যান শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজধানীর গোলাপবাগ ও সায়েদাবাদ থেকে গাড়ি ছাড়তে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস পৌঁছাতে পারছে না। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব ও বরপা এলাকাতেও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে কোথাও দীর্ঘ যানজট দেখা যায়নি।
সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টারম্যান আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, কোরবানির পশুর হাটের কারণে সড়কে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতিটি গাড়ি এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামিম শেখ প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত মহাসড়ক স্বাভাবিক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেকে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে মহাসড়কের যানবাহনের চাপ কম। তবে বিকেলের পর যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে গর্ত
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরে গর্তগুলোয় পানি জমে গেছে। ফলে যানবাহন চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
আবার বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরে আছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। কে কার আগে যাবে, যানবাহনগুলোর মধ্যে এমন প্রতিযোগিতা আছে। অনেক যানবাহনকে সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা করাতে দেখা গেছে। এসব কারণে গোলচত্বর কেন্দ্র করে তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের সিলেটে অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রেজাউল করীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরে যানবাহনগুলো খানাখন্দের কারণে ধীর গতিতে চলছে, তবে বড় ধরনের যানজট হচ্ছে না। চালকেরাও কথা শুনে না। তবে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ
কালবৈশাখীর কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে পদ্মা নদী অববাহিকায় দমকা ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টা থেকে ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে নৌরুটে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন বলেন, গত দুদিন ধরে পাটুরিয়ায় ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহন বেড়েছে। আজ সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। এর মধ্যে প্রচণ্ড কালবৈশাখীর কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় প্রায় অর্ধশত দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। তবে ঝড় শুরু হলে ফেরিগুলোকে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে নিরাপদে নোঙর করে রাখা আছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে।
নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণার আগে সকাল ১০টা থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চে যাত্রীরা গাদাগাদি করে এসেছেন। কোথাও দাঁড়ানোর নেই।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা এনামুল হক নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সকালেই বাসে গাবতলী থেকে লোকাল পরিবহনে পাটুরিয়ায় আসি। স্বাভাবিক সময়ে ২০০ টাকা ভাড়া হলেও আজ ৩০০ টাকা দিয়ে আসতে হলো। এরপর লঞ্চে উঠে দেখি মানুষের গাদাগাদি। তবে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড এবং নৌপুলিশের তদারকিতে দুর্ভোগ কম ছিল।’
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, যানবাহনের সঙ্গে অনেক যাত্রী আসছেন। ফেরিগুলো ঘাটে ভেড়ামাত্র রাজধানী ছেড়ে আসা হাজারো যাত্রী হুমড়ি খেয়ে নামছেন। কেউ মোটরসাইকেলে করে ছুটছেন।
সাভারের নবীনগরের বিশমাইল থেকে আসা পোশাকশ্রমিক মুনিরা আক্তরা, সীমা আক্তার, তানিয়া খাতুনসহ ছয়জন একত্রে নদী পাড়ি দিয়ে আসেন দৌলতদিয়া ঘাটে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দৌলতদিয়া ডাক বাংলোয় আশ্রয় নেন তাঁরা। মুনিরা আক্তার বলেন, ‘আমাদের সবার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী, নগরকান্দা ও মধুখালী উপজেলায়। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ইজিবাইকে ফরিদপুর পর্যন্ত যাচ্ছি। এখানেও ৭০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে নিচ্ছে। ফরিদপুর থেকে ইজিবাইকে যার যার বাড়ি যেতে হবে। ইজিবাইকে ওঠার পরই প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে আমরা সবাই ভিজে কাক হয়ে গেছি।’
পদ্মা সেতু এলাকায় গাড়ি যাচ্ছে নির্বিঘ্নে
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু উত্তর প্রান্তে মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেলেও যানজট নেই। এই রুট দিয়ে অনেকটা স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন মানুষ। তবে আজ দুপুর ১২টার পর এই জেলাতেও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাস কাউন্টারগুলোয় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এসব যানবাহনে করে ঘরমুখী মানুষ সেতু পার হচ্ছেন। কোথাও স্বল্প সময় অপেক্ষা করতে হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপেক্ষা ছাড়াই টোল পরিশোধ করে সেতু পার হওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর ফার্মগেট থেকে খুলনার বটিয়াঘাটার উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কোথাও যানজট না থাকায় দ্রুত সময়েই পদ্মা সেতু এলাকায় পৌঁছে যাই। সেতু এলাকাও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে এবার স্বস্তিতেই বাড়ি যেতে পারব বলে আশা করছি।’
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতু এলাকায় কোথাও কোনো গাড়ির জটলা নেই। স্বাভাবিকভাবে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। তবে নিমতলা ও ছনবাড়িতে দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরাতে গেলে কিছু সময়ের জন্য সড়কে গাড়ির লাইন তৈরি হয়। এতে সকাল ১০টার পরে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে এ ছাড়া ঈদযাত্রায় এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু দিয়ে মানুষ নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।