ভোলা সদর উপজেলা
গর্তে ভরা সড়কে আটকে থাকে যানবাহন
সদর উপজেলার ইলিশা বাসস্ট্যান্ড থেকে হাওলাদার বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে ছোট–বড় অসংখ্য গর্ত।
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা বাসস্ট্যান্ড থেকে হাওলাদার বাজারের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পুরোটাই ছোট-বড় গর্তে ভরা। বৃষ্টির পানি জমলে সেখানে কাদায় একাকার হয়ে যায়। এতে উপজেলার বাপ্তা ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। প্রায়ই গর্তে মালবাহী ট্রাক আটকে যায়।
ইলিশা বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম-উত্তরে ভোলা খালের পাশ দিয়ে সেলটেক, জাইল্যাবাড়ি, পাঙ্গাশিয়া বাজার হয়ে সড়কটি হাওলাদার বাজারে গেছে। সদর উপজেলার বাপ্তা ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হাওলাদার বাজার এলাকায় বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ভোলা অংশের সঙ্গে মিশেছে। এই সড়কের পাশে ১টি সিরামিক কোম্পানি ও ১০-১২টি ইটভাটা রয়েছে। মহাসড়ক থেকে ভোলা সদরে যাতায়াত সহজ হওয়ায় দিন দিন সড়কটিতে ভারী মালবাহী যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। এতে সড়কের ওপরে পিচের কার্পেটিং উঠে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সড়কের দুই পাশে বালুর ঢিবির চুইয়ে পড়া পানি। প্রায় সারা বছর সড়কটি কাদাপানিতে ভিজে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, বর্ষায় কাদাপানি এবং শীতে ধুলাবালুতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও আশপাশের মানুষ নাকাল হচ্ছে। এ সড়কের
পাশে একাধিক স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যেতে সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ সড়কের পাশে অবস্থিত পশ্চিম বাপ্তা স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক একরামুল আলম বলেন, এ সড়ক দিয়ে দিনে কমপক্ষে ৫০টি মালবাহী ট্রাক ও ট্রাক্টর চলে। বোরাক, মোটরসাইকেল, রিকশা, নছিমন-করিমন চলে কয়েক শ। কিন্তু এলজিইডি সড়কটি নির্মাণ করেছে রিকশা ও পায়ে চলা সড়কের মতো। সংস্কারের কয়েক দিনের মধ্যেই গর্ত তৈরি হয়। সড়কটিকে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের উপযোগী করা দরকার।
এ সড়কের পাশ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন জাঙ্গালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক হেলাল উদ্দিন গোলদার। তিনি বলেন, ভোলা খালের পাশ দিয়ে সড়কটি গেছে। সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিত ইট-বালুর ব্যবসা গড়ে উঠেছে। সড়কের পাশে আছে ১০-১২টি ইটভাটা, আছে সিরামিক কারখানা। সড়কটির ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভারী যানবাহনের চলাচল। এ সড়কসহ আশপাশের অনেক সড়কই বেহাল। গর্তে ভরা সড়কে সারা বছর কাদাপানি থাকে।
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, বাড়ি থেকে দুই সেট জামাকাপড় নিয়ে বের হতে হয়। যেকোনো মুহূর্তে গাড়ির চাকা থেকে ছিটকে আসা বালু-কাদা ইউনিফর্ম নষ্ট করে দিতে পারে।
সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘ইলিশা বাসস্ট্যান্ড-সেলটেক-জাইল্যাবাড়ি-পাঙ্গাশিয়া বাজার-হাওলাদার বাজার সড়কটির দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার। সড়কটির উন্নয়নে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদনের পর একজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নির্ধারণ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ একটি দল সার্ভে করে গেছে। প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ ও নকশার কাজ চলমান রয়েছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট। পাথর-বালুর ৮-১০ ইঞ্চি ম্যাকডম, ওপরে বিটুমিনাস কার্পেটিং হবে ৩ ইঞ্চি এবং ওয়ারিংকোড ২ ইঞ্চি। সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল, বিভিন্ন স্থানে আরসিসি পাকা ঢালাই করাসহ সড়কটি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে, যাতে ভারী মালবাহী যানবাহন চলতে পারে।
এ সড়কের পাশের বাসিন্দা রানা ইসলাম (৩২) বলেন, এ সড়ক ভালো রাখতে হলে আগে দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে সড়ক কমপক্ষে এক হাত উঁচু করতে হবে। আশপাশের বালু ব্যবসায়ীদের সরাতে হবে। নইলে যত ভালো সড়কই নির্মাণ করা হোক না কেন, টিকবে না। বালু চুইয়ে পানি এসে সারা বছর সড়ক ভিজে যায়। এতে সড়ক নষ্ট হয়।
এ কথায় সায় দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভোলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, সড়কের দুই পাশে যেন বালুর উঠান। বালু ব্যবসায়ীরা অপরিকল্পিতভাবে বালু রেখেছেন। ওই বালু থেকে পানি চুইয়ে এসে পড়ে সড়কে। এতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে সড়ক থেকে পানি দূরে রাখতে হবে।