নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. লুৎফুজ্জামান বাবর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আল হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮ জন। ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের জলি তালুকদার পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুখলেছুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২৫ ভোট পেয়েছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই বিজয় জনগণের বিজয়। এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করে যাব। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মদন উপজেলার কোর্ট ভবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জনসাধারণের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন লুৎফুজ্জামান বাবর। এ সময় তাঁর স্ত্রী, ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরাও ভোট দেন। ভোট দিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন, ‘আমি কল্পনা করিনি জীবনে কখনো ভোট দিতে পারব। ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরেছি। তাই আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া।’
লুৎফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি মদন উপজেলার বাড়িবাদেরা এলাকায়। তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মদনের বাগজান গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর এলাকায় দলমত-নির্বিশেষে খুবই জননন্দিত নেতা। তিনি যখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখন জেলার অসংখ্য মানুষকে যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দিয়েছেন, বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন। কে কোন দল করতেন বা কে কার গ্রুপ করতেন, তা তিনি কখনো আমলে নেননি। তাই সবাই তাঁকে পছন্দ করেন। এ জন্য এই নির্বাচনে জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।
খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রব স্বাধীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, বহুদর্শী মানবিক নেতা। তিনি সফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি নির্বাচনী এলাকা ছাড়া জেলায় সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৭ বছরের বেশি সময় তিনি মিথ্যা মামলায় জেল খেটে মুক্তি পেয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। জনগণ তাঁকে কতটুকু পছন্দ করে, এবারের নির্বাচন এটাই প্রমাণ করে।’