উত্ত্যক্তের অভিযোগে বিদ্যালয়ে এসে ছাত্রকে মারধর, পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত ১০

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা শব্দর খান উচ্চবিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার সময় দুটি মোটরসাইকেল ভাঙ্চুর করা হয়। বুধবার সকালে তোলাছবি : প্রথম আলো

কুমিল্লার মুরাদনগরে উত্ত্যক্তের অভিযোগে বিদ্যালয়ে এসে দুই স্কুলছাত্রকে মারধর করেন ছাত্রীর ভাইসহ পাঁচজন। তাঁদের রক্ষা করতে গেলে হামলার শিকার হন দুই শিক্ষক। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের মারধর এবং দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা শব্দর খান উচ্চবিদ্যালয়ে আজ বুধবার সকালে এসব ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। পরে পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরমতলা শব্দর খান উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ ওঠে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রকে খুঁজতে আসেন ছাত্রীর ভাইসহ পাঁচজন বহিরাগত। এ সময় ওই ছাত্রকে না পেয়ে তাঁরা তার দুই বন্ধুকে ধরে নিয়ে বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে মারধর করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বাধা দিলে তাঁর ওপরও হামলা চালান বহিরাগত ওই পাঁচজন। বিষয়টি বিদ্যালয়ে জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগতদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ও শিক্ষক জহিরুল ইসলামসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হযন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের দুটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা–পুলিশের সদস্য ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ছাত্রীর ভাইসহ বহিরাগত পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘উত্ত্যক্তের অভিযোগের বিষয়টি বিদ্যালয়ের কারোরই জানা নেই। মঙ্গলবার বিকেলেও ওই বহিরাগত ছেলেগুলো নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে তুলে নিতে বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তখন তাঁদের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। তাঁরা সেটি না করে আজ সকালে এসে দুজন শিক্ষার্থীকে টানাহেঁচড়া করে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে মারধর করেন। আমি প্রতিবাদ করাতে তাঁরা আমাকেও ধাক্কা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগতদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাঁদের আটকে রাখে।’

এ বিষয়ে জানতে ওই ছাত্রীর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁদের সঙ্গে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, শিক্ষকেরা যদি শিক্ষার্থীদের শান্ত করতেন, তাহলে এমন ঘটনা হতো না। তাঁরা মূলত বিষয়টি শিক্ষকদের জানানোর জন্য গিয়েছিলেন।

আজ বিকেলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, পুলিশ পাঁচজনকে উদ্ধার করে থানায় এনেছিল। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কিছু শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। সবার সঙ্গে আলোচনা করে মুচলেকা নিয়ে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ছাত্রীর ভাইসহ বহিরাগতদের মারধর করেছে। তবে আলোচনায় বসার পর কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। আর শিক্ষার্থীরাও ছোট, এ জন্য বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।