আজ সকালে বাহাদুর বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসখানেক ধরে মাংসের দাম কমতির দিকে।

দাম কমার কারণ জানতে চাইলে মাংস ব্যবসায়ী তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ভাই, মানুষের হাতে টাকা নেই। আগে সকালে গরু জবাইয়ের পর দুপুরের মধ্যেই মাংস শেষ হয়ে যেত। তিনটা পর্যন্ত গরু কাটছি। এখন সেখানে একটা গরু বিক্রি করাই কঠিন হয়ে গেছে। এর ওপর ইলিশের দাম কমেছে। বছরের এ সময়ে ইলিশের আমদানি বাড়ে। শখ করেও মানুষ এ সময় দু-একটা ইলিশ খায়।’

বাজারে মাছ কিনতে আসা পল্লিচিকিৎসক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ইলিশ কিনেছি। আজ মাংস কিনতে এসে দেখি, ইলিশ কিছুটা সস্তা। ৭০০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি কিনেছি। এক বছর পর ইলিশ কিনলাম।’

ইলিশ ছাড়াও বাহাদুর বাজারে কাতলা মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০, আইড় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০, পাবদা ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মাছের মধ্যে বাইন ৬০০, মলা ৩৫০ থেকে ৪০০, মাগুর ৭৫০ থেকে ৮০০, শিং ২৮০ থেকে ৩০০, ট্যাংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাঙাশ, রকেট, সিলভার কার্প মাছের দোকানে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। পাঙাশ প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০, রকেট ও সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।

বেড়েছে সবজির দাম

দিনাজপুর শহরের মডার্ন মোড় এলাকার বাসিন্দা শাকিলা পারভীনের (৩৪) চারজনের সংসার। আজ সকালে বাহাদুর বাজারে মাংস কিনেছেন আধা কেজি। সঙ্গে দুই হালি ডিম। আলাপচারিতায় শাকিলা বলেন, মাসে দুই কেজি মাংস কিনতেন। কয়েক মাস ধরে এক কেজি কিনছেন। তা–ও দুই দফায়। সব ধরনের সবজির দাম এত বেশি যে ১০০ টাকায় দুই ধরনের দুই কেজি সবজি পাওয়া যায়।

বাহাদুর বাজার ঘুরে দেখা মিলেছে শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বরবটির। সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, কয়েক দিন ধরে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বাজারে আসা আগাম শীতকালীন সবজির দাম একটু বেশি। এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হওয়া ১২০ টাকা কেজির শিম ২০০ টাকায়, ১০০ টাকার গাজর ১৪০ টাকায়, ৩০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। কম আমদানির কারণে দামের এ তারতম্য। শীতকালীন সবজি বাজারে আসা শুরু হলে প্রথম অবস্থায় দাম আরও বাড়বে। তাঁরা পাইকারিতে যে দামে কেনেন, এর চেয়ে পাঁচ থেকে সাত টাকা লাভে বিক্রি করেন।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি করলা ৮০, টমেটো ১২০, মুলা ৬০, শজনে ২৪০, কাঁকরোল ৪৫ থেকে ৫০, আলু ২২ থেকে ৩৫; ঢ্যাঁড়স, পটোল, চিচিঙ্গা ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। আর লাউ ও চালকুমড়া প্রতিটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা আবদুস সাত্তার বলেন, ‘৩০০ টাকা নিয়ে বাজারে আসছি। পাটশাক,আলু, বেগুন, ঢ্যাঁড়স, ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ কিনতেই শেষ। ডিম পর্যন্ত কিনতে পারলাম না। এমনও সময় গেছে ১০০ টাকায় তিন-চার প্রকারের সবজি কিনেছি। এখন সেখানে ৩০০ টাকার বাজারে ব্যাগের অর্ধেক খালি থাকে। মাসে আয় আট হাজার টাকা। ছয়জনের সংসার। মাছ-মাংসের কথা তো চিন্তাই করতে পারি না। ছেলেমেয়েদের কাছে মুখ দেখানোটাই দায় হয়ে গেছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন