সুন্দরবনে বনদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন ৬ জেলে, এখনো জিম্মি ৩
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে অপহরণের পাঁচ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন ৬ জেলে। তবে এখনো বনদস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন আরও ৩ জন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের কাছ থেকে জানা যায়, ৩০ মার্চ সুন্দরবনের সুবদির খাল, মাইশারকোল ও মোড়াতলী খাল এলাকায় মাছ ধরার সময় ৯ জেলেকে ‘ডন’ ও ‘আলিফ’ ওরফে ‘আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র বনদস্যুরা অপহরণ করে। পরে মুক্তিপণের দাবিতে তাঁদের জিম্মি করে রাখা হয়। ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে আনারুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও সুশান্ত জোয়ার্দার গতকাল শনিবার সকালে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। এর আগে গত শুক্রবার সকালে সাদ্দাম হোসেন, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম মুক্তি পান।
শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের জেলে সাদ্দাম হোসেন জানান, মুন্সিগঞ্জ ও রমজাননগর ইউনিয়নের ৯ জেলে ২৭ মার্চ সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন মাছ ধরার উদ্দেশ্যে। ৩০ মার্চ তাঁরা চুনকুড়ি নদের সুবদির খাল, মালঞ্চ নদের মাইশারকোল ও মামুন্দো নদের মোড়াতলী খালে মাছ ধরার সময় বনদস্যুদের কবলে পড়েন।
জেলেদের ও তাঁদের স্বজনদের কাছে জানা যায়, মুক্তির জন্য বনদস্যুরা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে। সাদ্দাম হোসেনকে মুক্ত করতে ৪০ হাজার টাকা, আনারুল ইসলাম, সুশান্ত জোয়ার্দার ও ইমরান হোসেনের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা এবং ইউনুস আলী ও সাইফুল গাইনের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘টাকা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের সুন্দরবনের গভীর খাল থেকে একটি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে আমরা লোকালয়ে পৌঁছাই। সাত দিন আমরা প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলাম।’ জেলেরা জানান, এখনো এনামুল হোসেন, হযরত আলী ও কামাল শেখ বনদস্যুদের হাতে জিম্মি।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল রহমান বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে ৯ জেলেকে অপহরণের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। এর মধ্যে ৬ জন বাড়ি ফিরে এসেছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় জেলেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে চান না। তাঁরা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। বেশি জানাজানি করলে সুন্দরবনে প্রবেশ করলে তাঁদের আবার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে। তবে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’